মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চরসেন্সাস বালাকান্দিতে জহিরুল শনির বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট, আদালতে মামলা

চরসেন্সাস বালাকান্দিতে জহিরুল শনির বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট, আদালতে মামলা
নির্যাতিত জহিরুর শনির পরিবার ও কেটে নেয়া গাছের অংশ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

প্রকাশ্য দিবা লোকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরসেন্সাস ইউনিয়নের পূর্ববালা কান্দি গ্রামে বৃদ্ধ জহিরুল শনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বের করে দিয়ে ভাংচুর লুটপাট ও গাছ কেটে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষরা।
এ ব্যাপারে বৃদ্ধ জহিরুল হক শনির ছেলে বাদশা মিয়া বাদী হয়ে সখিপুর থানায় অভিযোগ ও শরীয়তপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
মামলার বাদী বাদশা মিয়া জানান, আমরা ভাইয়েরা কেই বাড়ি থাকিনা। আমার বাবা আমার বোন রুনিয়া ভাগ্নী দশম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মুক্তাকে নিয়ে এ বাড়িতে বসবাস করেন। আসামী জাহাঙ্গীর শনি, আমেনা বেগম সহ ৮/৯ জন মিলে ২৯ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আমাদের বসত ঘরের সামনে এসে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিতে থাকে। আমার বৃদ্ধ বাবা প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে ঘার ধরে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ সময় অন্যান্য আসামীরা আমার বোন ও ভাগ্নীদের মারতে গেলে তারা ঘর ছেড়ে দৌঁড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। এ সময় আসামীরা মিলে আমাদের ঘরে তালা মেরে ঘরে পাঁকা বিটি শাবল দিয়ে কুপিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। এতেও তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি। পর দিন ৩০ এপ্রিল সকাল ৭টার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশী অস্ত্রশস্ত্র রামদা, সুরকী, টেটা, বল্লম নিয়ে আমাদের বাড়িতে অনাদিকা প্রবেশ করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় জাহাঙ্গীর শনি ও আমেনার নেতৃত্বে আমাদের ঘরের উত্তর পাশে ও পিছনে থাকা ১২টি কড়ই গাছ, ১৮টি মেহগনি গাছ, ৫টি সেগুন গাছ, ১৪টি আম, ১৩টি চাম্বুল গাছ, ৬টি কাঠাল গাছ যার আনুমানিক মূল্য ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। ঘরে থাকা স্টিলের আলমিরা থেকে নগদ ১ লক্ষ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণলংকার নিয়ে গেছে। আমরা স্থানীয় ভাবে বিচার চেয়ে পাইনি। এরপরে সখিপুর থানায় গেলে এসআই আতিয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে। তবে আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা কোথাও বিচার না পেয়ে ২ মে শরীয়তপুর আদালতে মামলা করেছে।
বাড়ীর মালিক বৃদ্ধ জহিরুল হক শনি জানান, আমরা কিছু বুঝার আগেই জাহাঙ্গীর, আমেনা ৮/৯ জন লোক নিয়ে এসে আমাদের ঘর ভাঙতে শুরু করে আমি বাঁধা দিতে গেলে তারা আমাকে নাড়তে মারতে উঠে। এসময় জাহাঙ্গীর ও আমেনা আমাকে ঘার ধরে বাড়ীর বাইর করে দেয়। এখন অপরাপর আসামীরা আমার মেয়ে ও নাতনীদের মারতে গেলে তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। আমার ঘরে আমেনা জোড় করে তালা মেরে দেয়।
জহিরুল হক শনির মেয়ে রুনিয়া বলেন, আমি ছেলে মেয়েদের ভাত খাওয়াচ্ছিলাম। জাহাঙ্গীর ও আমেনা গালাগালি করতে করতে আমাদের বাড়িতে আসে। এক সময় ঘরে ঢুকে আমার বৃদ্ধা বাবাকে ঘার ধরে টেনে বের করে দেয়। এসময় আমরা চিৎকার দিলে তাদের সাথে লোকজন আমাদের মারতে আসে। আমরা দৌঁড়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাই। তারা ঘরে তছনছ করে নগদ ১ লক্ষ টাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। আমাদের চিৎকারে তখন কেউ এগিয়ে আসিনি।
প্রতিবেশী মাফিয়া বলেন, আমেনা বিএনপি নেতা লোকমান শনির বউ। তার ভয়ে আমরা কেউ কথা বলতে পারিনা। তার অপকর্মের কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মামলা হামলা দিয়ে নাস্তানা বোধ করে।
অপর প্রতিবেশি আক্কাস মোল্যা বলেন, জাহাঙ্গীর ও আমেনার ভয়ে আমরা বালা কান্দি ছেড়ে জিয়া কান্দিতে এসে বাড়ি করেছি। এখানেও তারা হামলা চালিয়েছে। আমাদের ভবিষ্যত কি হবে আল্লাহই ভালো জানে। ওরা পারে না এমন কোন কাজ নাই। তাদের সামনে আমরা কেই ভয়ে কথা বলতে পারিনা।
সখিপুর থানার এসআই আতিয়ার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্থরা পরে আর থানায় আসেনি। শুনেছি তারা আদালতের আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে বালাকান্দিতে আমেনা ও জাহাঙ্গীর শনির বাড়ী গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। বাড়ির লোকজন তাদের ফোন নাম্বার না দেওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।