বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সখিপুর গো-হাটে ইজারাদার মিলেনি খাস আদায় শুরু

সখিপুর গো-হাটে ইজারাদার মিলেনি খাস আদায় শুরু
সখিপুর গো-হাটে ইজারাদার মিলেনি খাস আদায় শুরু

পর পর ৩ বার দরপত্র আহবান, সকল নিয়ম নীতি অনুসরণ করেও ভেদরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সখিপুর গো-হাটে ইজারা নেয়ার লোক পাওয়া যায়নি। ফলে উপজেলার ৩ কোটি টাকা মূল্যের এ হাটটি এ বছর ইজারা বিহীন রয়ে গেছে।
জানাগেছে, গত বছর বাংলা ১৪২৭ সালে আয়কর ও ভ্যাট বাদে ৩ কোটি টাকায় এ হাটটি ইজারা দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। করোনা দূর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে লোকশানের মুখে পরে কেউই এবার এ হাট ইজারা নেয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটটির ইজারা প্রদানের জন্য সকল প্রচেষ্টার পরেও ইজারাদার পাওয়া যায়নি। ফলে ঐ হাটের খাজনা আদায়ের জন্য খাস কালেকশন শুরু করেছে উপজেলা খাস কমিটি।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা সদরের সর্ববৃহৎ এ গো-হাটটি প্রতিবছরই ইজারা নেয়ার জন্য প্রতিযোগিতা লেগে যেতো। বাংলা সন অনুযায় প্রতিবছর বৈশাখ মাস থেকে পরবর্তি চৈত্র মাস পর্যন্ত এক বছরের জন্য ইজারা প্রদান করা হয় এ হাটের। প্রতি বুধবার সপ্তাহে একদিন গরু ছাগল বিক্রি হয় এখানে। শুধু ভেদরগঞ্জ নয় পার্শ্ববর্তী চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ ও বরিশাল জেলা থেকে গরু ছাগল ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা ও বিত্রেতারা এ হাটে আসে।
গত বছর এ হাটটি ৩ কোটি টাকা সর্বোচ্চ দর দিয়ে হাটটির ইজারা গ্রহণ করেন সখিপুর সরদার পরিবারের সন্তান বিএনপি নেতা ও সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান সরদার। যার জন্য তাকে জামানত, আয় কর ও ভ্যাটসহ মোট ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা জমা দিতে হয়েছে।
তার আগের বছর ১৪২৬ বাংলা সালে একই বাড়ীর সন্তান সাবেক চেয়ারম্যান ও সখিপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আওয়ামীলীগ নেতা হাজি মোয়াজ্জেম হোসেন সরদার ২ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা ইজারা মূল্যে এ হাটের ডাক গ্রহণ করেন।
করোনা মহামারির কারণে গত বছর হাটের বেচা কেনা বন্ধ থাকায় ইজারাদার নাজমূল আহসান সরদার ব্যাপক লোকশানের মুখে পরেন। পরে সে করোনাকালীন সময়ে হাট বন্ধের জন্য সরকারের নিকট ক্ষতি পূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। যার শুনানী এখনো চলমান আছে বলে জানা যায়।
তারই ধারাবাহিকতায় ১৪২৮ বাংলা সনের জন্য সখিপুর গো-হাটের জন্য সরকারি ইজারা মূল্য ২ কোটি ৯৬ লক্ষ টাকা সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করে দরপত্র আহবান করা হয়। কিন্তু ৩ দফায় দরপত্র আহবানের সময় শেষ হলেও করোনা মহামারির অতিরিক্ত মূল্য ও লোকশানের ভয়ে কোন পক্ষই ইজারা দরপত্র ক্রয় করেনি।
গত বছরের ইজারাদার পক্ষের সদস্য মোঃ রাজিব হাসান সরদার বলেন, করোনাকালিন সময়ে প্রায় ২/৩ মাস হাট বন্ধ ছিল। এর ফলে আমরা ব্যাপক লোকশানের মুখে পরেছি। আমাদের লোকশান পুষিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট ক্ষতিপূরণ দাবি করে উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়েছি। সে রিটের শুনানী এখনো চলমান রয়েছে। তবে কোন ক্ষতিপূরণ পাইনি।
সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মানিক সরদার বলেন, আমাদের ইজারাদারদের মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে হাটের ইজারা মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। এতে জনগণের কাছ থেকে আগে ৭ শত টাকা করে তুললেও এখন ১ হাজার টাকা করে তুলতে হয়। ফলে জনগণের উপর বাড়তি চাপ পড়ে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন, আমরা ৩ দফা দরপত্র আহবান করার পরে কোন ইজারাদার না পেয়ে গো-হাটটি বর্তমানে উপজেলা খাস কমিটির মাধ্যমে হাটের ইজারা আদায় শুরু করেছি। করোনার কারণে প্রান্তিক খামারীদের কথা বিবেচনা করে করোনাকালিন সময়ে সম্পুর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাট পরিচালনার জন্য কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।