বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনায় এবারও অনুষ্ঠিত হয়নি মহিষারের দিগম্বরী মেলা

করোনায় এবারও অনুষ্ঠিত হয়নি মহিষারের দিগম্বরী মেলা
ধর্মীয় কার্যাদি শেষে ভুক্তবৃন্দ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

করোনা দূর্যোগে এবারও শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহাসিক মহিষারের দিগম্বরী মেলা (গলইয়া) অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের ধর্মীয় আচার ও পূজা অর্চণা সংক্ষিপ্ত আকারে সীমিত পরিসরে পালন করেছে।
ছয়শ’ বছরের পুরণো মহিষারের দিগম্বরীর সন্ন্যাসীবাড়ি ও দিগম্বরী দিঘীর পশ্চিম পাড়ে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখ থেকে ৭ দিন ব্যাপি মেলা বসে। দীর্ঘ ৬শ বছর ধরে চলে আসা এ মেলা করোনা দূর্যোগের কারণে ২০২০ সালে থেকে স্বাস্থ্য বিধির কারণে সরকারি নির্দেশনায় বন্ধ রাখা হয়।
বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান ও সকল ধর্মের মানুষের বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এ মেলাটি ২৩ একর ৮৫ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত। এখানে আছে দিগম্বরীর সন্ন্যাসীর পৈতৃক বাড়িসহ মেলা চত্বর, জোড়া পুকুর, মনসা মন্দির, কালী মন্দির চত্বর ও লক্ষ্মীন্দরের ঘরসহ অসংখ্য স্থাপনা।
স্থানীয় সাংস্কৃতিককর্মী ও সমাজ সেবক মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, যুগ যুগ ধরে এখানে প্রতি বছর বাংলা নতুন বছর পহেলা বৈশাখ থেকে সপ্তাহ ব্যাপি মেলা (গলইয়া) বসে। এ ছারাও সপ্তাহে দু’দিন শনি ও মঙ্গলবার হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার অনুষ্ঠান হয়। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থী ও ভক্তরা এখানে সমবেত হতেন। ভক্তদের বিশ্বাস, দিঘীর জলে স্নান করলে সব পাপ ও রোগমুক্তি ঘটে। মহিষারের মেলাই হলো শরীয়তপুরের সবচেয়ে বড় বৈশাখী মেলা।
মহিষার ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজি রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, দিগম্বরী সেবা সংসদের অনুমোতি নিয়ে সরকারি ভাবে ১৯৮২ সালে অর্ধশতাধিক সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে পানি নিঃষ্কাশন করে ৬০০ বছরের পুরণো দিঘীটি পুণরায় খনন করা হয়। এসময়ে বেশকিছু দুর্লভ ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে ৪২ কেজি ওজনের একটি কষ্টি পাথরের মূর্তি যা বর্তমানে জাতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। এই স্থানটি সরকারি ও বেসরকারিভাবে সংরক্ষণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
স্থানীয় অধিবাসী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিশ্বনাথ দে বলেন, মহিষার গ্রামে এটি সবচেয়ে বড় দিঘী। অতিপ্রাচীণ এই দিঘীর রয়েছে নানা রহস্যঘেরা ইতিহাস। জনশ্রুতি আছে, কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা মৃত ব্যক্তির নামে চেহলাম অনুষ্ঠান করলে যে থালা বাসন ইত্যাদির দরকার হতো তার জন্য এই দীঘির পাড়ে এসে দিঘীকে নির্দেশ করে বলে গেলেই নাকি সকাল বেলা এসব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাড়ে এসে তৈরি থাকত। আমাদের ধর্মীয় মতে এ এলাকাটি তীর্থস্থান। তবে সরকারি বিধি নিষেধ থাকায় এবারও মেলা বন্ধ রেখে আমরা সংক্ষিপ্ত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা অর্চণা করে কার্যাদি সম্পন্ন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।