রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দূর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়াতে চায় কৃষক সোহেল সরকার

দূর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়াতে চায় কৃষক সোহেল সরকার
দূর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাড়াতে চায় কৃষক সোহেল সরকার

রমজানের বাজার ধরার প্রত্যাশায় শশা,বেগুন,চিচিংগা, বরবটি ও লেবুর বাগান সাজিয়ে ছিলেন জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার আর্দশ কৃষক সোহেল সরকার। তার সবজির বাগান গুলো ফুল ফসলে থরে থরে সেজে ছিল। হয়তো ২/১ দিনের মধ্যেই ফসল তুলে বাজারে যাব এমন স্বপ্ন দেখছিলেন সোহেল!
এমনি সময় গত এপ্রিলের ২৫ তারিখে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ও শিলা বৃষ্টিতে তার সকল স্বপ্ন ও ধুয়ে মুছে দিয়ে গেছে। করোনা দূর্যোগের মাঝে এ ক্ষতি কোন ভাবেই পুরন হবার নয়। সহায় হীন সোহেলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম।
সংবাদ পেয়ে কৃষক সোহেলের ক্ষয় ক্ষতি স্বচোখে দেখতে ছুটে আসেন শরীয়তপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবীদ আমির হামজা, ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রতন কুমার ঘোষ ও ঐ ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার কায়সার আহমেদ রানা।
সবার পরামশ্যে সোহেল আবার প্রাণশক্তি ফিরে পায়। প্রকৃতির হিংস্র থাবায় দলিত সবজির বাগানে তিনি আবার হাত লাগান। তার প্রিয় রানা ভাইয়ের কথামতো কাজ সপ্তাহ দুই/ একের
ব্যবধানে মনে হচ্ছে সবজি বাগান নতুন হচ্ছে। আল্লাহ সহায় থাকলে দ্রতই আবার বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন বেগুন, কাচামরিচ,চিচিংগা আর বরবটি।
কৃষক সোহেল সরকার জানান,এ সময় তার দুই দফা সবজি বাজারে বিক্রি হয়ে যেত। সবই আল্লাহর ইচ্ছে। আমিতো সব আশাই ছেরে দিয়ে ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমাদের জেলা ও উপজেলার স্যারদের পরামশ্যে মাঁচা গুলো ঠিক করে সার প্রয়োগ করি। এখন ১৫ দিনের মাথায় এ অবস্থা। স্যারেরা আমারে ক্ষতিপুরন দেয়নি,ঠিকই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার পরামশ্য দিয়েছে। আমি জানি “পরিশ্রমে ধন আনে,পুর্ণে আনে সুখ” আমি পরিশ্রম করে যাব বককী আল্লাহ ভরশা।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার কায়সার আহমেদ রানা বলেন,সোহেল সরকার আমাদের প্রশিক্ষিত উদ্ভাবনী ও আর্দশ কৃষক। ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে তার যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা পুরণ হবার নয়। তবে আমাদের জেলা ও উপজেলা স্যারদের কথা মেনে আবার বাগান পরিচর্চ্চা করায় তার মুলধন তুরতে পারবে বলে আমি মনে করি।
উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি। দূর্যোগের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে আমি আমার জেলা স্যার,আমার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রতন ও উপ-সহকারী রানাকে নিয়ে মাঠে গিয়েছি। সরকারি সহায়তা বা ক্ষতি পুরণ আসলে তাকে দিব। তবে আমরা আমাদের আভাব মিটানোর প্রয়োজনে তার পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি শিক্ষিত কৃষক সোহেল সরকার কে আমরা টাকা দিয়ে যা করতে না পারতাম পরামশ্যে তার চেয়ে শতগুন লাভ হবে তার। রমজানের বাজার থেকে পিছিয়ে পরেছে। এতে ক্ষতি হবে। আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যারে সাথে আলাপ করে সম্ভব সহায়তা দিব।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।