রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বাম্পার ফলনেও দাম কমে ভেদরগঞ্জে মরিচ চাষিরা হতাশ

বাম্পার ফলনেও দাম কমে ভেদরগঞ্জে মরিচ চাষিরা হতাশ
বাম্পার ফলনেও দাম কমে ভেদরগঞ্জে মরিচ চাষিরা হতাশ

‘এবার মরিচের ফলন ভালো হওয়ায় খুশি হয়ে ছিলাম। ভেবে ছিলাম গত বছরের মতো লাভ হবো। কিন্তু বাজারে গিয়ে মাথায় হাত। উৎপাদন ভাল হলেও এবার মরিচের দাম গত বছরের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে।
আশানুরূপ দাম পাচ্ছি না। গত বছর এ সময়ে মরিচ বিক্রি করে ছিলাম ২শত থেকে ২ শত ৫০ টাকা কেজি, আজ বাজারে বিক্রি করলাম মাত্র ১শত ৩০ টাকা কেজি দরে। ভেদরগঞ্জের মোল্যার হাটে মরিচ বিক্রি করতে এসে এমনি আক্ষেপ প্রকাশ করলেন আর্শিনগরের মরিচ চাষী আঃ জব্বার সিকদার। তিনি বলেন গত বছর আমরা কম দামে বিক্রির পর পরই বাজারে মরিচে দাম বেড়ে গিয়েছিল। এবার কি হয় জানিনা।
মোল্যার হাট বাজারের ব্যবসায়ী ও চরকুমারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মাহাবুর রহমান আক্তার বলেন, এবার ভেদরগঞ্জ উপজেলায় মরিচের ফলন ভালো হলেও দাম না পেয়ে হতাশ চাষিরা। হটাৎ বাজারে মরিচের সরবরাহ বেড়ে দাম কমে গেছে মনে হয়। আমরা খুচরা ক্রেতা তাই হাটে হাটেই মহাজনদের গুদামে পাঠিয়ে দেই কেজি ২/৫ টাকা লাভ হলেই নিজেদের ভাগ্যবান মনে করি।
চাষিরা জানান, চাষের শুরুর দিকে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ ছিল না। মরিচ খেত ও গাছে রোগবালাইও কম ছিল। এছারা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঠিক পরামশ্য ও তদারকির ফলে ফলন ভালো হয়েছে।
বাসস্টেশন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ‘১০ বছর ধরে শুকনো মরিচের ব্যবসা করছি। কিন্তু এবারের মতো এত কম দামে আর কখনো মরিচের বেচাকেনা হয়নি। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে ফলন ভালো হলেও দাম প্রতি কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কম হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন।’
বাজারে মরিচ কিনতে আসা ব্যবসায়ী মোঃ কালু মিয়া জানান, ১৫ দিন আগেও মরিচের দর ছিল প্রতি মণ ৭২০০-৮০০০ টাকা। এখন ৫০০০ থেকে ৫২০০ টাকা (প্রতি কেজি ১৩০) বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কয়েক দিন ধরে মরিচের দর হঠাৎ কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের আড়তে গত মৌসুমের শুকনো মরিচ এখনো মজুত রয়েছে। কেউ কেউ হাটে মরিচ আনলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি অফিসার আল আমিন জানান, ভেদরগঞ্জে চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করা হয় ৬ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল সাড়ে ৬ হাজার মেট্রিক টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে পুরো উপজেলায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে গত মৌসুমে ১৮০-২০০ টাকা কেজি দরে মরিচ বেচাকেনা হলেও এবার এখন পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এতে কৃষকরা লোকশানের ঝুঁকিতে পরবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।