শনিবার, ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে রজব, ১৪৪২ হিজরি
শনিবার, ৬ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভেদরগঞ্জে মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ

ভেদরগঞ্জে মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণ
ভেদরগঞ্জে মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সচেতনতা মূলক প্রশিক্ষণে বক্তব্য রাখছেন উপজেলা তানভীর-আল-নাসীফ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, উপজেলা মৎস্য বিভাগ, স্থানীয় সরকার উন্নয়ন প্রকল্প ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে ১৭ ফেব্রুয়ারী থেকে মা ইলিশ ও জাটকা মাছ রক্ষায় জেলেদের সচেতনতা মূলক ২ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদের শহীদ আক্কাস-শহীদ মহিউদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর-আল-নাসীফ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির মোল্যা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মৎস্য অফিসার প্রনব কুমার কর্মকার, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার নজরুল ইসলাম, কর্মশালার প্রথম দিনে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন জাইকার প্রতিনিধি এনামুল কবির, মোঃ জাকির হোসেন খান। কর্মশালায় উপজেলার মোট ৬০ জন জেলে অংশ গ্রহণ করেছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ হুমায়ুন কবির মোল্যা বলেন, জাটকা ও ডিমওয়ালা মা ইলিশ ধরার কারণে ইলিশের উৎপাদন কমে যায় এবং নদীতে কম পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ে। কম মাছ ধরা পড়লে জেলেদের উপার্জনও কমে যায়। তাই ইলিশের ভবিষ্যৎ উৎপাদন এবং জেলেদের উপার্জন বৃদ্ধির জন্যই জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য অভয়াশ্রমে আরোপিত সরকারি বিধিমালা মেনে মাছ ধরলে জেলেরা যেমন লাভবান হবে তেমনি, দেশেরও উন্নয়ন হবে। তাই আমাদের সরকার প্রধান মানবতার মা, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া সুযোগ গ্রহণ করেও যারা নদীতে মা ও জাটকা ধরবে তাদেরকে কোন প্রকারে ছার দেয়া হবেনা।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান, জেলেদের জন্য বিশেষ ভিজিডি ও অন্যান্য সুযোগ দিয়েছেন। তার পরেও জেলেরা সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে বা অভয় আশ্রমে মাছ ধরলে জেল জরিমানার শিকার হয়। তাই আমরা চাই সরকারের সুবিধা নিয়ে আমাদের সুন্দর আগামীর জন্য দেশের ইলিশ সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসি। আর সে কাজটি করার জন্য সবার আগে আমাদের জেলে ভাইদের ভূমিকা পালন করতে হবে।
জেলা মৎস্য অফিসার প্রনব কুমার কর্মকার বলেন. আমাদের দেশে ১০ ইঞ্চির কম দৈর্ঘ্যের ইলিশকে জাটকা বলা হয়। আজকের জাটকা আগামী দিনের ইলিশ। জাটকা ধরা হলে পরিপক্কতা লাভ করে বড় ইলিশে পরিণত হওয়ার এবং পরবর্তীতে বংশবৃদ্ধির সুযোগ থাকেনা। প্রাকৃতিক ভাবে মা ইলিশ নদীতে ডিম ছাড়ার পর তা থেকে পোনা বড় হয়ে জাটকা এবং পরবর্তীতে বড় ইলিশে পরিণত হয়। একটি মা ইলিশ ২.৫ লক্ষ থেকে শুরু করে ২৩ লক্ষ পর্যন্ত ডিম ছাড়ে অর্থাৎ একটি মা ইলিশ ধরলে ২৩ লক্ষ পোনা উৎপাদন বন্ধ হয়।
প্রশিক্ষণে জানানো হয় ৪.৫ সে.মি. (২ ইঞ্চি) বা তার কম আকারের ফাঁসজাল ব্যবহার অবৈধ, মনোফিলামেন্ট ফাঁস জাল বা কারেন্ট জাল, চরঘেরা জাল, বেড় জাল এবং বেহুন্দিজাল ব্যবহার নিষিদ্ধ। শরীয়তপুর জেলার জাজিরার কুন্ডেরচর থেকে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর ভেদরগঞ্জ উপজেলা কাচিকাটা, চরভাগা, তারাবুনিয়া চরসেন্সাস ও গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ও জালালপুর পর্যন্ত নদীর ৬০ কি.মি. এলাকায় অভয়াশ্রম। অভয়াশ্রম ছাড়াও সকল নদীতে ১ নভেম্বর হতে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, বিক্রয় ও দখলে রাখা নিষেধ।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।