সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রজব, ১৪৪২ হিজরি
সোমবার, ১লা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে কাচের চুড়ি

হারিয়ে যাচ্ছে কাচের চুড়ি
হারিয়ে যাচ্ছে কাচের চুড়ি

“যদি চুড়ি পরিয়ে দাও দুই হাতে সত্যি বলছি, সারাজীবন থাকবো তোমার সাথে”। চুড়ির রিনিঝিনি শব্দ শুনলেই মনে হয়, হাতে রংধনুর মেলা বসেছে। কানে ছোট দুল, কপালে ছোট টিপ, পাশাপাশি একগুচ্ছ চুড়ি, অতুলনীয়। সাজ পোশাকের অনুষঙ্গ হিসেবে চুড়ির আবেদন সবসময়ই। চুড়ি পরার কোন বাধা ধরা নিয়ম নেই। পোশাকের সঙ্গে রং মিলিয়ে যেমন পরা যায়, তেমনি কন্ট্রাস্ট করেও পরা যায়। চুড়ি থাকলে সাজটাই যেনো অন্যরকম সুন্দর হয়ে ওঠে। চুড়ি হাতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়। সাঁজগোছে আনে নান্দনিকতা।
বাংলা নববর্ষ, পূজা, পার্বণসহ জাতীয় দিবসগুলোতে নারীর হাতে রিনিঝিনি চুড়ি কখনোই বাদ পরে না। যে কোন উৎসবে কাচের চুড়ির জনপ্রিয়তা বেশি। এর পাশাপাশি প্লাস্টিক, কাঠ, মাটি, পূঁতি ও সূতার তৈরি চুড়িও বেশ জনপ্রিয়।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতা থেকেই নারীর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাচের চুড়ির প্রচলন ঘটে। তখনকার চুড়ির ফর্ম ও শৈলী ছিলো প্লেইন। কিন্তু মধ্যযুগে তা পরিবর্তিত হয়ে খাঁজকাটা হয়েছে। ওজনে ভারী হয়েছে, রং এ এসেছে ভিন্নতা। বিয়েতে নারীদের দুই বাহুতে শোভা পেতো রঙ বেরঙের চুড়ি।
ছোটবেলায় জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম কখন চুড়িওয়ালা হাঁক দিবে। “চুড়ি নেবে গো রঙ বেরঙের চুড়ি” যদিও সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পরেনা। ফেরিওয়ালার চুড়ি পরানোর কায়দা ছিলো চমৎকার। হাতে ব্যথাও লাগতো না। আবার চুড়িও ভাঙ্গতো না। এই যে হরেক রকমের চুড়ি, তার পিছনেও আছে কিছু কারণ। প্রতিটা রঙই কিছু না কিছুর প্রতীক।
সাজপোশাকের অনুষঙ্গ হিসেবে কাচের চুড়ির আবেদন কখনোই কমেনি। বিভিন্ন সময় কাচের চুড়ি পরার ঢঙে হেরফের হলেও তরুণীদের কাছে এর কদর সব সময়ই আছে। শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে কাচের চুড়ি সহজেই মানিয়ে যায়। ফ্যাশন-সচেতন তরুণীরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নানান ঢঙে বিভিন্ন নকশার কাচের চুড়ি পরছেন।
কোথায় পাবেন চূড়ি ঃ এক সময় আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভোজেশ্বর বন্দর, কাজিরহাট, মুলফৎগঞ্জ বন্দর, ভেদরগঞ্জ ও পট্রিতে পাইকারী ভাবে কাচের চুরি বিক্রি হতো। তারা ঢাকার চকবাজার, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচকে কাচের চুড়ির বিশাল সংগ্রহ থেকে কাচের চুরি নিযে আসতেন। এমন কোনো চুড়ি নেই, যা এখানে পাওয়া যায় না।
দরদাম বিভিন্ন রকম কাচের চুড়ির দাম সাধারণত ৩০-৬০ টাকার মধ্যে হয়। নকশাভেদে দামে তারতম্য আসতে পারে। একদম সাধারণ কাচের চুড়ি বা রেশমি চুড়ির দাম সাধারণত প্রতি ডজনে ২৫ থেকে ৩০ টাকা হয়।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।