শুক্রবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রমজান, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সখিপুরে চাঁদা না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার মোশারফ মোল্যা

সখিপুরে চাঁদা না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার মোশারফ মোল্যা
সখিপুরে চাঁদা না দেয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নির্যাতনের শিকার মোশারফ মোল্যা

শরীয়তপুরের সখিপুরে চাঁদা না দেয়ায় স্থানীয় মোশারফ মোল্যাকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সখিপুর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শাহজালাল মাল এর বিরুদ্ধে। আর এই নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান শাহজালাল মাল।

নির্যাতনে শিকার মোশারফ মোল্যা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাসহ গন্যমাণ্যদের পরামর্শে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেছেন।
নির্যাতনের শিকার মোশারফ মোল্যা বলেন, উপজেলার তারাবুনিয়া মৌজায় পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমি একটি পাকা দালানঘর নির্মাণ কাজ শুরু করি। চেয়ারম্যানের ভাই দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি মিন্টু মাল এরপূর্বে আমার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে। আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে আমি বাড়ি করছি তাই তাকে কোন চাঁদা দিতে রাজি হই নাই।

পরে গত ২৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে আমার বাড়িতে মিস্ত্রী কাজ করছে আর আমি কাজ দেখাশোনা করছি। এমন সময় ৮নং ওয়ার্ডের গ্রামপুলিশ আলী বেপারী এসে জানায়,‘চেয়ারম্যান কাজ বন্ধ রাখতে বলেছে’। গ্রামপুলিশের কথায় আমি কাজ বন্ধ করিনাই। তখন গ্রামপুলিশ আলী বেপারী চেয়ারম্যানের ফোনে কল করে আমার কানে ধরিয়ে দেয়। তখন আমি চেয়ারম্যানকে বলি,‘আমার জমিতে আমি বাড়ি করি আপনি কাজ বন্ধ করতে বলেন কেন’। এই কথায় চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ২ থেকে ৩শত লোক নিয়ে এসে আমাকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে নেয়।

আমার স্ত্রী-সন্তান ও সমাজের অনেক মুরব্বিরা গিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে আনার জন্য চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ করে। কারোর কথা না শুনে পাশের কক্ষে নিয়ে প্রথমে চেয়ারম্যান লাঠি দিয়ে আমাকে উপর্যপরি আঘাত করে। পরে গ্রামপুলিশরা আমাকে বেধরক মারধর করে। আমি বিষয়টি স্থানীয়দের জানাই। থানা আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শে সখিপুর থানায় গিয়ে অভিযোগ করি।

আহতের ছেলে নাবিল ও রুবেল জানায়, প্রায় দেরমাস ধরে চেয়ারম্যানি দায়িত্ব পেয়ে শাহজালাল মাল হলিখেলা শুরু করেছে। কারনে অকারনে নিরিহ মানুষের উপর নির্যাতন চালায় সে। ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে পারছে না। এবার চাঁদার দাবিতে প্রথমে চেয়ারম্যানের ভাই আমাদের নির্মানাধিন বাড়ির কাজ বন্ধ করতে বলে। পরে চেয়ারম্যান গ্রামপুলিশ পাঠিয়ে ও নিজে এসে আমার পিতাকে ধরে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে মারধর করে। আমরা চেয়ারম্যানের হাত-পায়ে ধরেছি। এক পর্যায়ে সমাজের মুরব্বির কাছে ফোন করি। সেই মুরব্বি চেয়ারম্যানের সাথে ফোনে কথা বলতে চায়। চেয়ারম্যানের কাছে মোবাইল দিলে সে মুরব্বির সাথে কথা না বলে আছার দিয়ে মোবাইল ভেঙ্গে ফেলে দেয়। আমাদের চোখের সামনে আমার পিতাকে মারধর করা হয়েছে। সন্তান হয়ে আমার পিতার জন্য কিছুই করতে পারি নাই। আমরা ওই নির্যাতনকারী চেয়ারম্যানের বিচার দাবী করছি।

আহতের স্ত্রী আজমেরী বেগম বলেন, এর আগেও চেয়ারম্যানের লোকজন ও চেয়ারম্যান নিজে এসে আমার স্বামীকে গালমন্দ করেছে। আমি চেয়ারম্যানকে বলি, আপনি আমাদের চেয়ারম্যান তাই আমাদের সাথে ভালোভাবে কথা বলবেন। গালাগালি করেন কেন? তখন সে আরও ক্ষেপে যায়। পরে সে গ্রামপুলিশসহ নিজে এসে আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে পরিষদের মধ্যে মারধর করেছে।

এলাকার মুরব্বি ফারুক বেপারী বলেন, মোশারফ মোল্যাকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ধরে নিয়েগেছে মোশারফের স্ত্রী ও ছেলেরা আমাকে জানায়। পরে আমি পরিষদে গিয়ে বিষয়টি কি হয়েছে চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাই। চেয়ারম্যান আমাকে বলে,‘আপনি চলে যান, ও অনেক বাড়বেড়েছে। ওর বিচার করতে হবে’। আমি সরে যাই। পরে পাশের কক্ষে নিয়ে চেয়ারম্যান ও গ্রামপুলিশরা মোশারফকে মারধর করেছে। এই কাজটা চেয়ারম্যান ঠিক করে নাই।

সখিপুর থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মানিক সরকার বলেন, বিগত ৪ থেকে ৫ বছর পূর্বে মোশারফ মোল্যাদের জমি নিয়ে দ্বন্দের একটা শালিশী করি। তখন সিদ্ধান্ত দেই মোশারফ তার বোনদের কাছ থেকে যে সম্পত্তি ক্রয় করেছে তার বোনেরা তা মোশারফকে দলিল করে দেয়ার জন্য। এর মধ্যে মোশারফের সৌদি প্রবাসী ভাতিজা সেই সম্পত্তি দলিল করে নিয়ে গেছে। এই নিয়ে আবার ঝামেলা হয়েছে। চেয়ারম্যান শাহজালাল মাল নাকি এই বিষয়টি নিয়ে মোশারফকে ডেকেছে। তখন মোশারফ বলেছে, এই বিষয় নিয়ে বসতে হলে পূর্বের শালিশ লাগবে। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ারম্যানের লোকজন ও গ্রামপুলিশরা মোশারফকে মারধর করেছে। চেয়ারম্যান এটা ঠিক করে নাই।

চেয়ারম্যান শাহজালাল মাল বলেন, মোশারফের ভাতিজা সৌদি থাকে। তার জায়গা দখল করে মোশারফ ঘর নির্মাণ করতেছে। সৌদি থেকে ওই ছেলেটা আমার কাছে ফোনে অভিযোগ করে। আমি দফাদার দিয়ে মোশারফকে ডেকে পাঠাই। মোশারফ আসে নাই। পরে আমিও ঘটনাস্থলে যাই। আমার সাথেও খারাপ আচরণ করে মোশারফ। আমি সৌদি প্রবাসী ওই ছেলেটার অভিভাবক হিসেবে দফাদার দিয়ে মোশারফ মোল্যাকে পরিষদে ধরে এনে মুরব্বিদের সামনেই ৫টি বাড়ি দেই। আমরা চাঁদাবাজ কিনা তা এলাকাবাসী জানে।

সখিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক বলেন, জানতে পারি মোশারফ ও তার ভাতিজা শাহজাহানের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ। বিরোধ মিমাংসার জন্য চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ডেকেছে। সেখানে মোশারফ যায় নাই। পরে মোশারফ পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে উচ্চবাচ্য কথা বলে। তখন চেয়ারম্যানের লোকজনের সাথে হাতাহাতি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য