মঙ্গলবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শীতের পিঠার ঐতিহ্য ফিরাতে ভেদরগঞ্জে পিঠা মেলা শুরু

শীতের পিঠার ঐতিহ্য ফিরাতে ভেদরগঞ্জে পিঠা মেলা শুরু
ভেদরগঞ্জে পিঠা মেলা অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম। ছবি-দৈনিক হুংকার।

ভেদরগঞ্জের রূপনগরে বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী শীত কালিন গ্রামীণ পিঠার জৌলুশ ফিরাতে শুরু হয়েছে সপ্তাহ ব্যাপি পিঠা মেলা। ৪ জানুয়ারী সোমবার বিকাল থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার আর্শিনগর ইউনিয়নের রূপনগর বাজারে বাজারে এ পিঠা মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ।
স্থানীয় সিআইজি পুরুষ ও মহিলা গ্রুপের অংশগ্রহণে এ মেলায় পিঠার মোট ৮টি স্টলে বসেছে। এবারের মেলায় বিলুপ্ত প্রায় ৩০ প্রকারের শীতকালিন গ্রামীণ পিঠার পশরা সাঁজানো হয়েছে। স্থানীয় কৃষক গ্রুপের পুরুষ সিআইজি সমিতির সভাপতি হাজি বুলবুল সরকারের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম, চ্যানেল আই এর শরীয়তপুর প্রতিনিধি এস এম মজিবুর রহমান, আর্শিনগর ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার কায়সার আহমেদ রানা, ডিএম খালী ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মামুনুর রশিদ হাসিব। বক্তব্য রাখেন কৃষক সোহেল সরকার, আবদুর জব্বার সিকদার, মাকসুদা বেগম প্রমূখ।
পিঠা উৎসবে হরেক রকমের পিঠার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল পাটিসাপটা, ভাবা পিঠা, ঝাল পিঠা, চিতই পিঠা, পুয়া পিঠা, তেলের পিঠা, ঝিনুক পিঠা মাংস পিঠা ও রস পিঠাসহ ৩০ রকমের পিঠা।
পিঠা মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আল নাসীফ বলেন, আমাদের বর্তমান সভ্যতার সাথে তাল মিলাতে গিয়ে গ্রামীণ ঐতিহ্যের বাহারী পিঠা হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলার ঘরে ঘরে পৌষ মাসে গ্রামীণ পিঠার যে উৎসব বসতো তা বর্তমান প্রজন্মের কাছে কল্পনা। নতুন প্রজন্মের সামনে আমাদের পিঠার হারানো গৌরব তুলে ধরতেই সরকারি সিদ্ধান্তে আমাদের উপজেলা কৃষি বিভাগ এ পিঠা মেলার আয়োজন করেছ। আমি অনন্দিত এ জন্য যে আমাদের মা বোনেরা এখনো রকমারি পিঠা তৈরী করতে ভুলে যায়নি। আমি ব্যক্তিগত ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য সর্বাক্ত সহযোগিতা করবো।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেমা ইসলাম বলেন, ফসল কাটা পরে ঘরে তোলা, গোলাজাত করার সাথে সাথে আপনজন তথা জামাইদের আপ্যায়নে গ্রাম বাংলায় পিঠার যে উৎসব পরে যেতো আজ তা সুদুর অতিত। আমাদের পিঠার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার ঐকান্তিক ইচ্ছায় কৃষি বিভাগ গত কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ পিঠা মেলার আয়োজন করে আসছে। তারই ধারা বাহিকতায় আজকের এ পিঠা উৎসব ও পিঠা মেলার আয়োজন। সরকারের এ প্রচেষ্টার ফলে আমাদের নতুন প্রজন্ম রকমারি ও বাহারি পিঠার রূপ রং ও স্বাদ অনুভব করতে সক্ষম হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।