শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিজরি
শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

আক্তার হোসেনরাই হতে পারে স্মার্ট বাংলাদেশ কারিগর

সখিপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে আক্তারের দোকান পরিদর্শণ করছেন জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসান। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক মোঃ পারভেজ হাসান এসেছেন সখিপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে। সাথে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইমামুল হাফিজ নাদিম, সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজি কামরুজ্জান মানিক। তাদের দেখা শেষ পর্যায়ে আশ্রয়ণের কোনে এসে দাঁড়িয়ে পড়লেন।
জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন এটা আশ্রয়ণের বাসিন্দা আক্তার এর দোকান। এটা শেষ নয় এখান থেকেই শুরু! জেলা প্রশাসক দেখলেন তার দোকানের টেলিভিশন, ফ্রিজ এর পরে দোকানের কোনে বসানো চোট্রবক্সটি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ওটা কি? আক্তারের জবাব রাউডার। এটার সাহায্যে আমি আমাদের আশ্রয়ণের সবাইকে ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছি। বিনিময়ে আমি কিছু আর্থিক লাভবান হচ্ছি।
কে এই আক্তার? ভেদরগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র কাঠ মিস্ত্রি আক্তার হোসেনের জীবনের গল্পটা ছিল মাথা গোঁজার ঠাঁইহীন সুবিধা বঞ্চিত অন্য দশজনের মতই। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে পাওয়া নিজের ঘরের আঙ্গিনাতেই ৪ সদস্যের পরিবারকে নিয়ে একটু ভালো থাকার চেষ্টায় গড়ে তোলেন একটি মুদির দোকান। মানুষ বিস্মিত হয় যখন দেখি স্মার্ট বাংলাদেশের যে স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেখছেন সেই স্বপ্ন লালন ও কর্মে বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে আক্তার হোসেন।
তার ভাগ্য বদলানোর গল্পটা শুরু হয় গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু হওয়া “আশ্রয়ণ প্রকল্প”এর মাধ্যমে সখিপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নয়ন সরকার কান্দিতে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উপহার মাথা গোঁজার ঠাই আজীবন লালিত স্বপ্ন নিজের একটি ঘর পেয়েছে সে। ঘর পেয়ে বসে না থেকে নতুন ঘরে থেকে নতুন স্বপ্ন দেখেন আক্তার হোসেন।
তার জীবিকার উৎস হিসেবে গড়ে তুলেছেন ছোট্ট মুদির দোকান। যা তিনি সাজিয়েছেন স্মার্ট ভাবেই। স্মার্ট টিভির পাশাপাশি দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা যাতে নিজের পাশাপাশি বসবাসকারী অন্যান্যরাও পেতে পারে সে জন্য দোকানের কোনে স্থাপন করেছেন দ্রুত গতির রাউটার! আক্তার মনে করেন স্মার্ট বাংলাদেশের যে স্বপ্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেখিয়েছেন অর্থাৎ ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ। যেখানে প্রতিটি মানুষের প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকবে এবং দেশ বিশ্ব পরিমণ্ডলে পিছিয়ে থাকবে না। সে স্বপ্ন আমি দেখছি আমার মতো করে। এ সময় আকতার হোসেন এর উদ্যোগের জন্য তাকে স্মাট বাংলাদেশ গড়ার একজন অভিযাত্রী হিসেবে অভিনন্দন জানান জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসান। জেলা প্রশাসক বলেন, আক্তার হোসেনদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে আমাদের বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।