শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিজরি
শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ড্রেজিংএ ধীরগতি আলুবাজার ঘাটে লঞ্চ আসা বন্ধ ব্যবসায়ীক ক্ষতি

ড্রেজিং এর কারণে বন্ধ হয়ে আছে লঞ্চঘাট। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার নরসিংহপুর আলুর বাজার লঞ্চ ঘাটের অদূরে পদ্মার শাখা নদীতে ডুবোচর জেগে ঘাট এলাকায় নাব্যতা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে নৌযান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ড্রেজিং চলছে ধীর গতিতে। এতে শরীয়তপুর-চাঁদপুর, শরীয়তপুর-ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, বরিশালের সাথে নৌরুটে লঞ্চ চলাচল ব্যহত হচ্ছে। বিগ্নিত হচ্ছে শরীয়তপুর-চাঁদপুর ফেরী চলাচল।
১ জানুয়ারী রবিবার আলুর বাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নাব্যতা না থাকার কারণে বিগত মাসাধিকাল ধরে লঞ্চঘাটের মুখের নদীতে ড্রেজারের পাইপ ফেলে রাখা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ঘাটে লঞ্চ ভীড়তে পারছেনা। নৌপথে অঞ্চলের যাত্রী ও পন্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী কাদির বেপারী জানান, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় হাজার লোক যাতায়াতা করে থাকে এ ঘাট দিয়ে। ড্রেজিং চলায় এ ঘাটে লঞ্চ ভীড়তে না পারায় মালামাল লোড-আনলোডেও সমস্যা হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ব্যাঘাত ঘটছে এবং চরম বিপাকে পড়েছে বালারহাট, মোল্যারহাট, সখিপুর ও ডিএমখালিসহ ১১ বাজারের ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বালাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, দীর্ঘ এক মাসের বেশী আলুবাজার ঘাটে লঞ্চ ভীড়ছেনা। এ ঘাটের যাত্রীদের মাঝ নদীতে চরে ট্রলারে করে নিয়ে লঞ্চে তুলে দেয়। ফলে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। শিশু, বয়স্ক ও নারী যাত্রীদের ভোগান্তি সীমাহীন। এ ব্যাপারে ঘাটের লোকজনদের বলে কোন সমাধান হচ্ছেনা। তারা ড্রেজিং এর জন্য সমস্যা হচ্ছে বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।
পাশের ফেরী ঘাট ব্যবহারকারী দিদার পরিবহনের চালক মোঃ বাদশা মিয়া বলেন, শীতকালে নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে নাব্যতা সংকটে ঠিকমত ফেরী চলেনা। এ ছাড়া একটি ড্রেজার দিয়ে নদীতে থেমে থেমে ড্রেজিং করায় আমাদের ঘাটটি প্রায়ই বন্ধ থাকে। ফলে প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা সময় নষ্ট হয়। আর ঘাট থেকে শরীয়তপুরের বুড়িহার পর্যন্ত সড়কের কথা কি বলবো! সড়কতো নয় যেন মরণ ফাঁদ।
যশোর থেকে আসা ট্রাক চালক আনোয়ারুল বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়া ও নাব্যতা সংকটে এ পথে ফেরী চলাচল বিগ্নিত হচ্ছে। ঘাটের সামনে ড্রেজিং করায় প্রায় দিনই ঘাটে সমস্যা হয়। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহন ঘন্টার পর ঘন্টা এমকি দিনে পরপর দিন বসে থাকতে হয়। এ ছারা শরীয়তপুরের বুড়িহাট থেকে ফেরি ঘাট পর্যন্ত সড়ক না কি নদী খাল তা এখানে না আসলে বুঝানো অসম্ভব। আমরা খুব দায় না পরলে এ পথে আসিনা।
ঘাটের দায়িত্বে থাকা রিপন মিয়া বলেন, ধীরে ধীরে ড্রেজিং করে সময় ক্ষেপন করে জানুয়ারী-ফেব্রয়ারী পার করবে তারা। এর পরে মার্চ মাস এলে পানি বাড়বে তখন হিসাব মিলিয়ে চলে যাবে। আবার নতুন করে পরের বছর ড্রেজিং এর অপেক্ষায় থাকে। এ ভাবে চলে যাচ্ছে বছবের পর বছর। অথচ আমাদের টানতে হচ্ছে লোকশানের বোঝা।
আলুরবাজার ফেরীঘাটের ড্রেজিং কাজের তদারককারী বলেন, আমরা প্রতিবছর আলুর বাজার ঘাটের নদী থেকে ৪ লক্ষ ঘনমিটার মাটি অপসারণ করে থাকি। আমরা ৩৫ দিন যাবৎ ড্রেজিং করছি। আর ১০/১২ দিনের মধ্যে আমাদের ড্রেজিং শেষ হলে লঞ্চ চলাচল শুরু করা যাবে।
নরসিংহপুর ঘাটের সহ ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, নাব্যতা বজায় রাখার জন্য একটি ড্রেজার প্রায় ২৫/৩০ দিন যাবৎ কাজ করছে। লঞ্চঘাট বন্ধের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। আমাদের এ সময়ে কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। তবে আমাদের ঘাট থেকে শরীয়তপুর সদরের বুড়িরহাট পর্যন্ত বেহাল সড়কের কারণে যান বাহন এমনিতে কমে গেছে।
নরসিংহপুর ফেরী ঘাটের ইজারদার মোঃ জিতু মিয়া বলেন, নাব্যতার জন্য ড্রেজিং চলছে, যা আমাদের জাতির জনকের কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যাত্রীদের সুবিধার জন্য করাচ্ছেন। তা যে গতিতে চলছে তাতে লাভের পরিবর্তে মানুষে ক্ষতি হচ্ছে বেশী। এতে আমাদের মোটা অংকের লোকশানের মুখে পরতে হচ্ছে। দ্রুত ডেজিং কাজ সম্পন্ন ও সড়ক সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বিআইডবিউটি এর উপ-পরিচালক শাহাদাত হোসেন বলেন, আমাদের ফেরী ঘাটে ড্রেজিং চলছে এ বিষয় আমি কিছুই বলতে পারবো না। আপনাকে আমি ড্রেজিং এর নির্বাহী প্রকৌশলীর নাম্বার দিচ্ছি তার সাথে কথা বলেন।
এ বিষয় নির্বাহী প্রকৌশলী রেজা হোসেন খন্দকার বলেন, ড্রেজিং এর কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ তাও ১ মাস আমি কিছুই জানিনা। এখনি দেখছি আধা ঘন্টার মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, আমরা ভাটি এলাকার তাই প্রতিবছর ড্রেজিং করি আবার ভরাট হয়ে যায়। তাই বছরের পর বছর পলি অপসারণ করতে হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।