শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভেদরগঞ্জে আবাদি জমিতে অবাধে পুকুর খনন, কমছে ফসলি জমি

ভেদরগঞ্জে আবাদি জমিতে অবাধে পুকুর খনন, কমছে ফসলি জমি
ভেদরগঞ্জে আবাদি জমিতে অবাধে পুকুর খনন, কমছে ফসলি জমি

শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ফসলি জমিতে অবাধে পুকুর খনন চলছে। এক্সক্যাভেটর ও কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে জমি কমে যাওয়ায় এ উপজেলায় ফসল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,
একটি পৌরসভা ও ১৩ ইউনিয়ন রয়েছে। “বর্তমানে এখানে ১৮ হাজার ৪শত ৩৯ হেক্টর আবাদি জমি এবং সাড়ে ৪ শত হেক্টর জলাভূমি ও নদী-নদী রয়েছে। “পৌর এলাকা ও বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা টাকার জন্য তাদের তিন ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। আবার অনেকে এক্সক্যাভেটর দিয়ে জমি খুঁড়ে পুকুর খনন করছেন। এই মাটিও ইট তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একদিকে জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমির পরিমাণ কমছে। এছাড়া উঁচু জমি গর্তে পরিণত হওয়ায় সেচ কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, উপজেলার ডিএমখালি ইউনিয়নের বেকু সম্রাট আলমগীর হোসেনের এক্সক্যাভেটর দিয়ে তার বিশাল এলাকার জমিতে পুকুর খনন করছেন।

এ প্রসঙ্গে জমির মালিক হানু কবিরাজ বলেন, আমার জমিটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাই জমি খনন করে মাছ চাষের জন্য পুকুর করছি।

মহিষার ইউনিয়নের ২নং ওয়াড়ের মেম্বার আলী আজম বেপারী জানান, আর্থিক লাভের আশায় কতিপয় ব্যক্তি জমিতে স্যালোমেশিন বসিয়ে বালু তুলে বিক্রি করছেন। আবার কেউ কেউ জমির উপরিভাগ বা জমি খনন করে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে আশপাশের জমি দেবে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘বালু উত্তোলনের ফলে এই উপজেলায় দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। এছাড়াও মাটির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। ফলে তিন ফসলি জমি দিন দিন এক ফসলিতে পরিণত হচ্ছে। ওপরের মাটি বিক্রি করায় অনেক আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সেচ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটছে।’

এ প্রসঙ্গে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর-আল-নাসীফ জানান, আবাদি জমিতে পুকুর খনন না করার ওপর সরকারের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। অভিযুক্তদের দুইবার আবাদি জমিতে পুকুর খননের কারনে জরিমানা করা হয়েছে। তারপরও আবার নামিয়েছে। ওদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।