শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ভেদরগঞ্জের ইউএনও-এসিল্যান্ডের ওপর হামলার অভিযোগে আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মীর গোলাম মোস্তফা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সরকারি খাস জমি উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমসহ চার জন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) রাতে রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মীর গোলাম মোস্তফা ও জিন্নামীর মালতসহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনকে আসামী করে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও মামলার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সরকারি খাস জমিতে স্থাপিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দকৃত আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত ঘর পরির্দশণে যান রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও রামভদ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর গোলাম মোস্তফা ও জিন্না মীর মালতসহ ৪/৫ জন এসে ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে বাঁশের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করে।
ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম এতে বাধা দিলে তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। এ সময় স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই হামলাকারীদের নিষেধ করলে তাকেও মারধর করে ‘রাজাকার’ বলে কটাক্ষ করে ।
এ সময় হামলাকারীরা ওই প্রকল্পে থাকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত সাইনর্বোড ভাংচুর করে। সংবাদ পেয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা করে মীর গোলাম মোস্তফা বাহিনী।
স্থানীয়রা হামলার শিকার আহতদের উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। রাতেই রামভদ্রপুর ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম বাদী হয়ে ভেদরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মীর গোলাম মোস্তফা ও জিন্না মীর মালতের বক্তব্যের জন্য বার বার চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয় ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন মোড়ল বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে দোষীদের বিচারের দাবীতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করবো। সাংগঠনিক ভাবে বসে দোষী প্রমানিত হলে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
জেলা আওয়ামীলী সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, ব্যক্তির দোষের দায় কখনোই সংগঠন বহন করবেনা। মীর গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে আইনের গতিতে মামলা চলবে। তিনি দোষী প্রমানিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রামভদ্রপুরে সরকারি খাস জমিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘর পরিদর্শন ও সরকারি জমি উদ্ধার করতে গিয়ে ইউনিয়ন সহকারি ভূমি কর্মকর্তা রেজা শাহ আলম স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মীর গোলাম মোস্তাফার হামলা শিকার হয়েছেন। এ সময় তারা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ‘রাজাকার’ বলে গালিগালাজ ও মারধর করেছে। সংবাদ পেয়ে আমি ও এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করে।
এ ব্যাপারে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহালুল খান বাহার বলেন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ ৪ জনের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ দিকে এই ঘটনায় দোষীদের বিচারের দাবীতে ৩ নভেম্বর সকাল ১০ টায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলা সদরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষনা করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।