রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বৃষ্টি থামলেই সখিপুরে বেহাল সড়কের উন্নয়ন শুরু হবে

বৃষ্টি থামলেই সখিপুরে বেহাল সড়কের উন্নয়নে শুরু হবে
সখিপুরে বেহাল সড়ক পরিদর্শন করছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন। ছবি-দৈনিক হুংকার।

তিনটি ইউনিয়নের সংযোগ সহ দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুইটি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির বেহাল দশা। চরম ভোগান্তিতে ঐ সড়ক ব্যবহারকারী পথচারীগণ।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সাত কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা মাটির এ সড়কটি রক্ষণাবেক্ষন ও উন্নয়ন না হওয়ায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরেছে। উত্তর ও দক্ষিণ তারাবুনিয়ার সাথে সখিপুর ইউনিয়নের এ সংযোগ সড়কটির উপর দিয়ে প্রতিদিন দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুইটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীগণসহ দৈনিক কয়েক হাজার মানুষ যাতায়ত করে থাকে। বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা-পানির সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানি ও মাটি মিশে কাদায় একাকার হয়ে যায় পুরো সড়ক। এতে বিপাকে পড়েন ওই এলাকার হাজারো মানুষ। বছরের পর বছর কাচাঁ রাস্তাটির উন্নয়ন না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন বৃষ্টি কমলেই রাস্তাটিতে ইট বিছিয়ে উন্নয়ন কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের “রশিদ বেপারী বাজার ব্রিজের পূর্বে তিন রাস্তার মোড় হতে ৯ নং ওয়ার্ডের আক্কাস প্রধানিয়া বাড়ি পর্যন্ত” এবং তিন রাস্তার মোড় হতে ৮ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার রাস্তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ সব এলাকাবাসীর চলাচলের বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটু সমান কাদা আর শীতে ধূলা মাড়িয়েই চলাচল করতে হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আবুল কালাম বেপারী জানান, কাদার জন্য গ্রামের এ রাস্তায় কোনো অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, ভ্যান-রিক্সা ঢোকে না। আমরা শুধু পায়ে হেঁটে চলাচল করি তাও কষ্টসাধ্য ।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আক্কাস প্রধানীয়া, মোঃ বাদশা মাদী, শাজাহান প্রধানীয়া বলেন, আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না। আমাদের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না, নিজ চোখে দেখতে হবে। আমরা ঠিকমতো হাটবাজারে যেতে পারি না। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। বিশেষ করে বৃষ্টি-কাদার দিনে জুতা স্যান্ডেল হাতে নিয়ে দুই কিলোমিটার কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।
ওই গ্রামের মোঃ সেকান্দর বেপারী, মোঃ শিপন বেপারী বলেন, এলাকায় প্রচুর কৃষি ফসল উৎপাদন হয়। কিন্তু বেহাল দশার সড়কের কারণে কৃষকরা সময়মতো পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয় চাষীরা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আফজাল পেদা বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা। তার পর আবার নতুন মাটি দেওয়াতে বৃষ্টির কারণে কাদা হয়ে গেছে। এরিমধ্যে ইউএনও স্যার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশা করি খ্বু তাড়াতাড়ি এর একটা সমাধান হবে।
সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মানিক সরদার বলেন, কিছু দিন আগেও এ সড়কটি মেরামত করেছি। মাটির রাস্তা হওয়ায় আবার একই অবস্থা হয়ে গেছে। এই রাস্তাটি চরাঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দিনরাত হাজারো মানুষ চলাচল করে। এছাড়া ছোটবড় অনেক গাড়িও চলাচল করে বর্তমানে রাস্তাটি ১৫ ফুট চওড়া। একাধিক বার উপজেলা পরিষদ, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেও কোন সুফল পাইনি। স্থায়ী ভাবে পাকা করণ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। ইতিমধ্যে আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদ্বয় সড়কটি পরিদর্শন করেছেন আশা করি খ্বু তাড়াতাড়ি এর একটা সমাধান হবে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাস্তাটি গত বছর ৪০ দিনের কর্মসূচি দ্বারা মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে। পাঁচ দিন অতি বৃষ্টির সময় মাটির রাস্তা দিয়ে মাহিন্দ্রা, ড্রাম ট্রাক ও ভটভটি নসিমন চলাচল করে রাস্তাটি কর্দমাক্ত করে ফেলেছে। আমি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কে নিয়ে পরিদর্শন করেছি। বৃষ্টি কমলেই রাস্তাটি ইট বিছানোর কাজ শুরু করবো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।