শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিজরি
শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা: নাহিম রাজ্জাক এমপি

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা: নাহিম রাজ্জাক এমপি
ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন নাহিম রাজ্জাক এমপি। ছবি-দৈনিক হুংকার।

স্বণির্ভর শরীয়তপুরের স্বপ্নদ্রষ্টা ইয়াং বাংলার আহবায়ক আলহাজ্ব নাহিম রাজ্জাক এমপি বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে ধানমন্ডির বাসভবনে বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একটি কুচক্রী মহল। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে দিনটি। তবে এবার বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) এর কারণে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতপূর্বক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
১৬ আগস্ট মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন মোড়ল। সাধারন সম্পাদক হাজি আবদুল মান্নান হাওলাদার এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাজী আবদুল মান্নান বেপারী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান রাড়ী, ডামুড্যা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ গোরন্দাজ, ভেদরগঞ্জ পৌরসভা মেয়র আবুল বাশার চোকদার, এমপি’র একান্ত সচিব গোপাল মন্ডল, যুবলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান রাড়ী, ছাত্রলীগের সভাপতি নিরব খান, জাতীয় শ্রমিকলীগ সভাপতি আবুল হোসেনসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিম রাজ্জাক আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাত বার্ষিকী। বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৫ আগস্ট এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের এদিনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের হাতে ধানমন্ডির নিজ বাসভবনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদাত বরণ করেন। একই সাথে শহীদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ অনেক নিকট আত্মীয়। এমন ঘটনা কেবল দেশের ইতিহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসেও বিরল। আমি শোকাহত চিত্তে তাঁদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা মহান স্বাধীনতার রূপকার। ১৯৪৮ সালে ভাষার দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বসহ ১৯৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলন ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ৫৮’র সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলন, ৬৬’র ৬-দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান ৭০’র নির্বাচনসহ বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাঁকে বার বার কারাবরণ করতে হয়।
বঙ্গবন্ধু বাঙালির অধিকারের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। ফাঁসির মঞ্চেও তিনি বাংলা ও বাঙালির জয়গান গেয়েছেন। দীর্ঘ চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এই মহান নেতা ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশে বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁরই নেতৃত্বে দীর্ঘ নয়মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছে। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালির অন্তরে চির অমলিন, অক্ষয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।