মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভেদরগঞ্জে আইন উপেক্ষা করে ফসলি জমি কেটে মাছের প্রকল্প

ভেদরগঞ্জে আইন উপেক্ষা করে ফসলি জমি কেটে মাছের প্রকল্প

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার পাপরাইল এলাকায় কৃষকের অনুমতি ছাড়া ফসলি জমিতে ইরি ব্লকের ম্যানেজার মাছ চাষের জন্য ঘের খনন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে ব্লক ম্যানেজার ও কৃষকদের মধ্যে প্রকাশ্যে বিরোধ চলছে। কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন খনন যন্ত্র ভ্যাকু জব্দ করে ভ্যাকুর মালিককে জরিমানা করেছেন। সব কছিু উপেক্ষা করেও প্রভাবশালী মহলটি ফসলি জমিতে ঘের খননের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। বিভিন্ন সময় ঘের বিরোধী কৃষকদের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে ব্লক ম্যানেজারের পক্ষ থেকে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, ছয়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ছয়গাঁও এলাকার পাপরাইল গ্রামের কৃষকদের সাথে নিয়ে ছয়গাঁও ইউপির সাবেক মেম্বার ও ব্লক ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন সরদার প্রায় ২০ বছর ধরে ৫০ একর জমিতে ইরি ব্লক করে আসছে। গত বছর থেকে ওই ম্যানেজার ফসলি জমিতে মাছ চাষের প্রকল্প করার জন্য পায়তাড়া করছে। ইতোমধ্যে কতিপয় কৃষকের জমি তার দখলে নিয়ে ভ্যাকু দিয়ে মাছ চাষের ঘের কাটা শুরু করে। যে সকল কৃষকরা তাদের জমিতে মাছ চাষে অনিচ্ছুক সেই সকল কৃষকরা তাদের জমিতে নিজ উদ্যোগে ইরি ধান চাষ করেছেন। ইরি ক্ষেতে ধানের ফুল বেরিয়েছে। এখন ব্লক ম্যানেজার কৃষকদের জমিতে পানি প্রদানে বাঁধ সেজেছেন। পানির অভাবে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের।

কৃষক খোরশেদ আলম, এনায়েত সরদার, আনছার আলী সরদার সহ অনেক কৃষকরা জানায়, ব্লক ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন সরদার তাদের জমি মাছ চাষ প্রকল্পে নিতে প্রস্তাব করে। তাদের ফসলি জমিতে মাছ চাষ করলে সারা বছর ভাতের অভাবে কষ্ট করতে হবে তাই মাছ চাষ প্রকল্পে জমি দিতে রাজি হয়নি তারা। তাদের জমিতে ইরি ধানের চাষ করেছেন। পাশ্ববর্তী পুকুর থেকে তারা পানি সেচ করে ধান ক্ষেতে দিতেন। পাশ্ববর্তী পুকুর মালিকদের সাথে কথা বলে পানি সেচ ব্যবস্থা বন্ধ করিয়ে দিয়েছেন ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন। এখন পানির অভাবে তাদের জমি ফেটে চৌচির হয়েগেছে এবং ধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই বিষয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানিয়েছেন।

ব্লক ম্যানেজার ও সাবেক মেম্বার গিয়াস উদ্দিন সরদার বলেন, আমি ২০ বছর ধরে এই ব্লকে ম্যানেজারি করেছি। এখন ধান চাষ লাভজনক অবস্থায় নাই। শ্রমিক খরচ, পানির খরচ ও কৃষানদের খরচ বাদ দিয়ে আমাদের কোন ব্যবসা থাকে না। তাছাড়া এই জমি নিচু হওয়ায় প্রতি বছরই পানি জমে থাকে। অনেক সময় ধান পানিতে ডুবে যায়। তাই সম্পূর্ন ধান নষ্ট হয়ে যায়। মুলধনও খুঁজে পাই না। এখন কৃষকদের সাথে মিল করেই মাছ চাষের সিদ্ধান্ত করেছি। যে সকল কৃষক আমাদের জমি দেয় নাই তাদের জোর করছি না। তাদের জমি বাদ দিয়েই আমাদের ঘের খনন করব। কৃষকরা যদি পানির ব্যবস্থা করতে বলত তাহলে তাও করতাম। আমরা কৃষকদের কোন হুমকি দেই নাই বা পানি সরবরাহে কোন বাঁধাও প্রদান করিনাই।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্তুজা আল মুঈদ বলেন, কৃষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ভ্যাকু আটক করা হয়। পরে ভ্যাকু মালিককে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভ্যাকুর চাবি জব্দ আছে। যারা ফসলি জমি নষ্ট করছে তাদের ডাকা হয়েছে। পানি অভাবে কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করব। ফসলি জমিতে মাছের ঘের করার কোন অনুমোদ দেয়া হয়নি তাই ঘের করতে পারবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।