শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি
শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্ত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে স্ত্রীর অনশন

স্ত্রীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে ছাত্রদল নেতার বাড়িতে স্ত্রীর অনশন
স্ত্রীর দাবীতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করছেন চপলা। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কর্তিকপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবীতে উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ ইমরান খান এর বাড়িতে তার স্ত্রী বিষের বোতল নিয়ে অনশন শুরু করেছে।
শনিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে তিনি তার শ্বশুরবাড়িতে উঠে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবি নিয়ে অবস্থান শুরু করেছেন। ঘটনাটি উপজেলার রামভদ্রপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কার্তিকপুর গ্রামে। তরুণীর স্বামী মোঃ ইমরান খান ওই গ্রামের মৃত-শাহজাহান খানের ছেলে। স্ত্রী চপলার অবস্থানের কথা শুনে ইমরানকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ওই তরুণী একই উপজেলার চরসেনসাস ইউনিয়নের সিকদার কান্দি গ্রামের মৃত-শহীদউল্লাহ হাওলাদারের মেয়ে।
জানা যায়, ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রদল নেতা ইমরানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে বন্ধুত্ব, এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২০ সালের ১৫ মে স্থানীয় কাজি অফিসে গিয়ে তারা গোপনে বিয়ে করেন। ওই তরুনী বিয়ের বিষয়টি তার পরিবারকে জানালেও ইমরান তার পরিবারকে জানাননি। বিয়ের পর ইমরানের সঙ্গে ওই নারীর গোপনে যোগাযোগ ও সম্পর্ক চলতে থাকে। এভাবে এক বছর হয়ে গেলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীর স্বীকৃতি না দেওয়ায় চাপ প্রয়োগ করেন ওই নারী। ইমরান বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। এক পর্যায়ে ওই নারীকে অস্বীকার করেন ইমরান।
ওই নারীর ভাষ্যমতে, ‘ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী কাজির মাধ্যমে গোপনে ইমরান আমাকে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর তার ভাইকে ইতালী পাঠাবে বলে আমার কাছ থেকে দুই ধাপে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। তার কথায় এক বছর বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখি। আমি স্ত্রী হিসেবে তার বাড়িতে থাকতে চাওয়ার পর থেকে সে আমাকে অস্বীকার করছে। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইমরানের এলাকার নেতাদের বিষয়টি জানালে তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। স্ত্রীর মর্যাদার জন্য আমি শ্বশুরবাড়িতে অনশন করতেছি, যদি আমাকে মেনে না নেয় আমি বিষ খেয়ে আত্নহত্যা করবো।’
বাড়িতে অবস্থানের শুরু থেকেই ইমরান তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তার অভিযোগ, অভিভাবকদের কাছে তাদের বিয়ে গোপন রাখা ও তার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় নানা শঙ্কায় পড়েন তিনি। ব্যবসা করতে ৫ লাখ টাকা যৌতুকও দাবি করছেন ইমরান। স্বামীর রহস্যজনক এমন আচরণে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। দুই বছর পার না হতেই স্বামীর এমন আচরণে অবশেষে তিনি শনিবার থেকে ইমরানের বাড়িতে অনশন করেছেন।
তরুণী আরও বলেন, এবিষয় রামভদ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপ্লব সিকদারকে জানালে, তিনি ইমরান খানকে পরিষদে তলব করলেও সেখানে সে উপস্থিত হয়নি। শনিবার সকালে ইমরানের বাড়িতে গিয়ে তরুনী বিষ হাতে নিয়ে অবস্থান ও অভিভাবকদের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করলে তারা বিস্মিত হন। কিন্তু তরুনীকে বাধা না দিয়ে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছেন তারা।
এবং ইমরানের মামা মতিন সরদার জানান, ইমরান ও ওর বিবাহিত স্ত্রী একান্তে বিবাহ করেছে। আমরা ভালো ভাবে জানতাম না, এখন যেহেতু ঘটনা শুনলাম ইমরান ডিভোর্স দিয়েছে তার স্ত্রীকে সত্য কি না তা জানিনা। আমরা উভয় পক্ষ বিচারের মাধ্যমে সঠিক তথ্য সাপেক্ষে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় মেম্বার শিপল সিকদার বলেন, বিষয়টি আমার আগে জানা ছিলোনা। আজকেই শুনলাম এবং মেয়েকে দেখলাম। বিষয়টা আমরা উভয় পক্ষকে নিয়ে সুষ্ঠ সমাধান দেয়ার চেষ্টা করবো।
এবিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আমি ঐ এলাকার মুরব্বী রহমান ভাইকে বলি, ওনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের হাত থেকে বিষের বোতলটি উদ্ধার করে বিচারের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অনশন সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে মেয়ে আমাদের কাছে লিখিত কোন অভিযোগ দিলে আমরা আইনানুসারে ব্যবস্থা নিবো।
পরে মেয়ের স্বামী ভেদরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমরান খান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি তাকে বিয়ে করেছি ঠিক আছে। কিন্তু এখন সে বিষ খেয়ে মরে যাক। আমার কোন কিছু যায় আসে না। আমি তাকে তালাক দিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।