শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি
শুক্রবার, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভেদরগঞ্জে ক্যান্সারে আক্রান্ত শামসুলের মানবেতর জীবন

ভেদরগঞ্জে ক্যান্সারে আক্রান্ত শামসুলের মানবেতর জীবন
নিজের জরাজীর্ণ ঘরের সামনে ক্যান্সারে আক্রান্ত অসহায় শামসুল। ছবি-দৈনিক হুংকার।

মানবেতর জীবনযাপন করছেন শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামের ক্যান্সারে আক্রান্ত দারিদ্র অসহায় শামসুল হক চৌধুরী (৪৫)। তাঁদের নিজেদের থাকার মতো একটি ভালো ঘর নেই। ছেলে-মেয়ে নিয়ে জরাজীর্ণ একটি টিনের চালায় খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাঁদের। অভাব-অনটনের সংসারে নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। ছেলে-মেয়ে নিয়ে টিনের ঝুপড়ি ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অসহায় ওই শামসুল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়া ফেরত শামসুল হক চৌধুরী ৩ বছর হয় ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে কর্মজীবনের বিরতি নিয়ে ৮ মাস ধরে বাংলাদেশে এসেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রবাসে নিজের অর্জিত জমানো টাকা তো শেষ করেছেনই তারপরেও ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে আজ নিঃস্ব তিনি। দীর্ঘদিন প্রবাসে কর্মজীবন কাটিয়েও তৈরি করতে পারেনি মাথাগোঁজার মতো একটি বসত ঘর। থাকেন জরাজীর্ন একটি ঘরে। তার শরীরে প্রচুর রক্তখরণ হওয়ার কারণে ঢাকা গিয়ে মাসে ৪ বার রক্ত দিতে হয়।
সরেজমিনে উপজেলার ফেরাঙ্গিকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পাটখড়ির বেড়া একটি কুঁড়েঘরের মতো শামসুল হক চৌধুরীর ঘর। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধীর মত শামসুল হক দুই হাত ও পা চিকন হয়ে গেছে। কানে কম শোনেন। শারীরিকভাবে তিনি প্রতিবন্ধী হওয়ায় এখন কোন ধরণের কাজ করতে পারেন না শামসুল।
খোঁঁজ নিয়ে জানা যায়, পৈত্তিক সূত্রে ৮ শতক ভিটেবাড়ির মালিক হন শামসুল হক চৌধুরী। বসবাসের অযোগ্য টিনের চাল ছিদ্র হয়ে গেছে। শীতের দিনে সারারাত শিশির পড়ে ঘরের ভেতর। কাঁথায় মুখ লুকালেও সকালে সব কুয়াশায় ভিজে যায়। এ অবস্থায় খুব অসহায় জীবনযাপন করছেন শামসুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। দু বেলা দু মুঠো খেতেও পারে না কোন কোন দিন।
শামসুল হকের স্ত্রী আয়রিন আক্তার বলেন, আমার স্বামীর পিছনে অনেক টাকা নষ্ট করে চিকিৎসা করছি, আসলে আমাদের উপার্জনের আর কেউ নেই। তাই খুব অসহায় জিবন জাপন করতেছি, আবার ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। ভাঙা ঘরে পোলাপান নিয়ে কোনো রকম থাহি। বৃষ্টি বাদল এলে তো সব ভেঙ্গে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাদের একটা ছোট্ট ঘর দিতো। তাহলে আমরা ভালোভাবে থাকতে পারতাম। প্রধানমন্ত্রীর জন্য মন খুলে দোয়া করতাম।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর কুঁড়েঘরে থাকছি। বৃষ্টির দিনে ঘরে থাকা যায় না। ঘরের চাল ও বেড়ায় অসংখ্য ছিদ্র। কোনোমতে জীবনযাপন করছি আমরা।
শামসুল হক বলেন, আমি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বিদেশ থেকে ফেরত আসার পরে হাত ‘পা অকেজো কোন কাজ করতে পারি না। এখন আমি একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর মত। আমার ঘর করার সামর্থ্য নেই। গরীব মানুষ আমরা। রোদ, বৃষ্টি-ঝড়, শীত আমাদের ওপর দিয়েই যায়। আমি একটা ঘর ভিক্ষা চাই। আমি খুব অসহায় হয়ে পড়েছি। আমি আমার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাঁচতে চাই।
নারায়নপুর ৫ নং ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেযারম্যান কামাল রাড়ী বলেন, শামসুল হক বিদেশ ফেরত একজন অসহায় লোক। তার ঘরের অবস্থা একবারে খারাপ। ঘরের জন্য আমি চেয়ারম্যানের কাছে আলাপ করেছি। এবার ঘরের বরাদ্দ এলে তাকে দেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।