শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
শনিবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সখিপুরে ৫ম শ্রেনীর প্রতিবন্ধি ছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগে দপ্তরী কারাগারে

বিদ্যালয়ের এই ভবনের দ্বিতীয় তলায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে দপ্তরী ইমরান নেপাল

সখিপুরে এক প্রতিবন্ধী স্কুল ছাত্রীকে একই বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী কাম দপ্তরী ধর্ষণ করেছে। ঘটনার দিন থেকেই ধর্ষককে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে সখিপুর থানা পুলিশ। ধর্ষকের পরিবার মামলা তুলে নিতে ধর্ষিতার পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীসহ ধষিতার পরিবার ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করছে। ধর্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।
মামলার এজাহার ও ধর্ষিতার পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ধর্ষিতা চলতি বছর ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৪ নং দক্ষিন ফেলিজচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। ভর্তির পর থেকেই ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরী ইমরান নেপাল (২৫) প্রতিবন্ধী ওই ধর্ষিতার উপর খারাপ নজর দেয়। বিষয়টি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা খাদিজাসহ অনেক শিক্ষকের নজরে আসে। দপ্তরীর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ধর্ষিতার মাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষিতাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেয়। সেই থেকে ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী মেয়েটির পড়া-লেখা বন্ধ হয়ে যায়। গত ২২ মে মেয়েটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাহিরে গেলে আসামী ইমরান নেপাল মুখ চেপে ধরে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যায়। ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে দপ্তরী প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে সারারাত ধর্ষণ করে ভোরে চোর বলে তাড়িয়ে দেয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে ধর্ষিতার পিতা নাসির বেপারী বাদী হয়ে সখিপুর থানায় মামলা করে। মামলার আসামীদের গ্রেফতার করে হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রীকে দপ্তরী ইমরান যৌন হয়রানী করেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। তারা আরও জানায় এই কারনে বিদ্যালয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমতে শুরু করেছে।
মামলার বাদী জানায়, মামলা তুলে নিতে ধর্ষকের পরিবার চাপ প্রয়োগ করতেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ২ লাখ টাকাও প্রস্তাব করেছে ধর্ষকের লোকজন। বাদী কোন মীমাংসা চায় না। বাদী ন্যায় বিচার প্রার্থী। যাতে আর কোন মেয়ে ওই দপ্তরীর লালসায় শিকার না হয়।
এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ভেদরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। অভিযুক্ত দপ্তরীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষকদেরও ছাড় দেয়া হবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।