মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভেদরগঞ্জে কৃষকদের মাঝে স্বপ্ন জাগাচ্ছে উচ্চ ফলনশীল ব্রিধান-৪৮

Auto Draft
ভেদরগঞ্জে ব্রিধান-৪৮ এর প্রদর্শণী। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সরকারের প্রণোদনা, অনুকুল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের সহায়তায় স্বল্প সময়ে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান-৪৮ পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করে সাফল্য পেয়েছে ভেদরগঞ্জের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় আউশ আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বিনামূল্যে বীজ সার প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন প্রণোদনার ফলে চলতি বছরে ৫ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে।
অন্য ধানের তুলনায় এ জাতের ধানে ৪৫-৫০ ভাগ পানি ও সার কম লাগে। এটির ফলন বেশি ও বাজারে এখন ধানের দামও বেশি হওয়ায় কৃষরা লাভবান হচ্ছেন।
পরীক্ষামূলক এ ধানের চাষ করে হেক্টর প্রতি ৫ থেকে ৭ মেট্রিক টন ফলন পেয়েছে যা কৃষি বিভাগের লক্ষমাত্রার চেয়ে প্রতি হেক্টরে ২ টন বেশী আর আউশ মৌসুমের স্থানীয় জাতের চেয়ে প্রায় দ্বিগুনেরও বেশী।
ব্রি-ধান-৪৮ আউশ মৌসুমে ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস থেকে উপজেলার ২ হাজার ৯২০ জন কৃষককে সরকারি ভাবে বিনা মূল্যে প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় বীজ ও সার দেয়া হয়েছে। এর ফলে উপজেলায় এবার ১৩ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন অধিক আউশ ধান উৎপন্য হয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের তাঁতী কান্দি গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন তাঁতী জানান, আমি উপজেলা থেকে সহায়তা পেয়ে ১৮ শতক জমিতে এ ধান চাষ করি। ধান খুবই তারাতারি পাঁকছে, ধান পাইছি ১৪ মণ। আমার ধানের এ ফলন দেখে এলাকার অন্যান কৃষকরা আমার কাছ থেকে বীজ নিতে আসছে।
চরকুমারিয়া এলাকার কৃষক মনসুর আলী জানান, আগে আউশ ধান ফলন খুব একটা হতো না। কিন্তু বর্তমানে সরকারের দেয়া উন্নত জাতের আউশ ধান চাষ করে আমরা বেশ লাভবান হয়েছেন। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে উন্নত জাতের আউশ ব্রিধান-৪৮ এবং বিনা ধান আবাদ করে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন।
আর্শিনগর ইউনিয়নের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার কায়সার আহমেদ রানা বলেন, ব্রি-ধান ৪৮ অত্যন্ত সম্ভবনাময় জাত, জীবনকাল কম, ফলন বেশি। এ জাতের বিশেষ গুণ হচ্ছে ব্রি-ধান ৪৮ এর গাছ শক্ত, তাই সহজে হেলে পড়ে না, ছড়ায় ধানের সংখ্যা বেশি এবং চিটার সংখ্যা খুবই কম। ফলে আউশ মৌসুমে এ জাতের আবাদ বৃদ্ধি করে এদেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও টেকসই করে বিদেশে চাল রপ্তানী করা সম্ভব হবে।
উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার আল আমিন বলেন, আমার ইউনিয়নে ২২ হাজার হেক্টর আবাদী জমির মধ্যে ২৭৫ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান-৪৮ এর চাষ হয়েছে। ব্রি-ধান-৪৮ এর ফলন তুলনামূলকভাবে বেশি। উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান-৪৮ বীজতলা থেকে শুরু করে ধানকাটা পর্যন্ত ১০০ থেকে ১১০ দিন পর্যন্ত সময় লাগে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, কৃষিবান্দব প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্য শেখ হাসিনা এর আন্তরিক ইচ্ছায় গত আউশ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভার ২ হাজার ৯২০ জন কৃষককে বীজ, সার সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনুকুল আবহাওয়া পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাঙ্খিত ফলনের চেয়ে আউশ মৌসুমে ব্রি-ধান-৪৮ এর অনেক বেশি ফলন পাওয়া গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।