মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভেদরগঞ্জে মাল্টা ও লেবু চাষে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন সালাহউদ্দিন

ভেদরগঞ্জে মাল্টা ও লেবু চাষে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন সালাহউদ্দিন
সালাউদ্দিনের মাল্টা বাগান পরিদর্শন করছেন উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মামুনুর রশিদ হাসিব। ছবি-দৈনিক হুংকার।

রাজধানী ঢাকার টাংগাইলে মিষ্টির ব্যবসা করতেন সালাউদ্দিন মোল¬্যা। তাতে লাভও ভালোই হতো। মিষ্টির ব্যবসা ভালো চললেও পরে সিদ্ধান্ত নেন ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে গিয়ে লেবু বাগান করবেন। যদিও তার এ সিদ্ধান্ত প্রথমে পরিবারের কেউ মেনে নিতে চায়নি।
তবে সালাউদ্দিন থেমে যাওয়ার পাত্র নন। ২০১৩ সালে ৭০ শতক জমি লিজ নিয়ে ৩০০টি লেবু গাছ দিয়ে লেবু চাষ করেন এবং ২০১৮ সালে দুই একর ৪০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে এক হাজার ৩০০টি গাছ দিয়ে মাল্টার বাগান করেন। মাত্র এক বছরে লেবু ও দুই বছরে মাল্টা চাষে তিনি আজ সফল লেবু ও মাল্টা চাষি। বছরে তার বাগান থেকে প্রায় বিশ লাখ টাকার মাল্টা ও লেবু বিক্রি হয়। এই বাগানগুলোতে হওয়া লেবু ও মাল্টা চারা বিক্রি করে তিনি আরও চার লাখ টাকা পান।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার সখিপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আনু সরকার কান্দি গ্রামের মো. কাশেম মোল্য¬ার ছেলে সালাউদ্দিন মোল্য¬া (৪৫)।
সালাউদ্দিন মোল্য¬ার বাবা কাশেম মোল্য¬া এখন পাশাপাশি ছেলের লেবু ও মাল্টা বাগানেও কাজ করেন। তার বাগানের নাম রেখেছেন ‘মোল্য¬া লেবু ও মাল্টা বাগান’।
টাঙ্গাইল জেলায় লেবু ও মাল্টা চাষের একটি বাগান দেখে তিনি এই ফল চাষে আগ্রহী হন। ২০১৩ সালে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে লেবু ও মাল্টার বাগান শুরু করেন। বর্তমানে তিনি সাত একর ৯০ শতক জমিতে লেবু ও দুই একর ৪০ শতক জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। সেখানে আছে ৭ হাজার ৬০০ লেবু ও এক হাজার ৮০০ মাল্টাগাছ।
সালাউদ্দিন মোল্য¬া বলেন, লেবু ও মাল্টা চাষে তার বেশ আগ্রহ। তার বাগানে চায়না থ্রি, সিলকেট লেবু এবং পাকিস্তানি বেড়িকাটা মাল্টা ও ভারতীয় প্রলিত মাল্টা জাতের গাছ আছে। চারা রোপণের এক বছরের মধ্যে লেবু ও দুই বছরের মধ্যে মাল্টা ফলন শুরু হয়। বর্তমানে তার বাগান পরিচর্যার জন্য বারোজন লোক কাজ করেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক বেকার যুবক মাল্টা-লেবু বাগান করে বেকারত্ব দূর করছেন।
তিনি নিজের বাগানে মাতৃগাছ থেকে বাকল দিয়ে ‘গ্রাফটিং’ করে চারা উৎপাদন করেন। তিনি বলেন, এ বছর প্রায় ২০ লাখ টাকার লেবু এবং আড়াই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে তার লেবু ও মাল্টা নিজ এলাকা ছাড়িয়ে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহ বিভিন্ন উপজেলা ও চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে গেছে। দূর-দূরান্তের ব্যবসায়ীরা তার বাগানের লেবু ও মাল্টা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। বাগান থেকে ব্যবসায়ীরা পাইকারি মাল্টা ১২০ ও ৮০ পিচ লেবু ৩০০ টাকা দরে কিনেন।
রহমান সরদার, কালু বেপারী বলেন, বাজার থেকে মাল্টা কিনে খেয়েছি। তার তুলনায় এখানকার নতুন বাগানে চাষ করা মাল্টার মিষ্টি বেশি ভালো এবং মিষ্টি লাগছে। এছাড়াও সালাহউদ্দিন ভাইয়ের তার বাগানের লেবু কিনেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম জানান, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে মাল্টা বাগান শুরু হয়। যার সফলতা দেখে কৃষকরা মাল্টা চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। সালাউদ্দিনের মাল্টা বাগান উপজেলার প্রথম বাগান। উদ্বুগ্ধকরণ ও প্রদর্শনী স্থাপনের মাধ্যমে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৩০ একর জমিতে মাল্টা চাষ হয়। বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ হচ্ছে নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরীর মাধ্যমে আমদানী নির্ভরতা কমানো এবং কৃষিকে বানিজ্যিকরণ করা। বাজারের মাল্টা থেকে এ মাল্টা চাহিদা অনেক বেশী। উপজেলা থেকে এবার মাল্টা বিক্রি হবে প্রায় ৩ কোটি টাকার।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম আরো বলেন, সালাউদ্দিন মোল্য¬ার বাগানে আমি গিয়েছি। তার উৎপাদিত মাল্টা আকারে বড় ও মিষ্টি। তাছাড়া তিনি লেবু চাষেও বেশ সফল। তিনি কৃষি অফিসের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন। তবে গত বছর শিলাবৃষ্টি ও দীর্ঘ মেয়াদী বন্যার কারনে তার পুরো বাগান তিন ফুট পানিতে তলিয়ে যায়। যার কারনে তার অনেক চারা মারা যায় এবং তিনি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। পরবর্তীতে কৃষি অফিসের দিক নির্দেশনায় বাগানের যত্ন ও পরিচর্যার দরুন এ বছর প্রচুর মাল্টার ভালো ফলন এসেছে। কোন কোন গাছে আড়াই মন মাল্টা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।