মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি
মঙ্গলবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
দিনে ১২ হতে ১৫ ঘন্টা করে চলতে পারেনা তিনটি ফেরি

তীব্র স্রোতে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন

স্রোতে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন
তীব্র স্রোতে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন

পদ্মা ও মেঘনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে নদীতে তীব্রত স্রোত বেড়েছে । স্রোতের কারনে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারনে দিনে রাতে ১৫ ঘন্টা তিনটি ফেরি চলাচল করতে পারছে না। অন্য ফেরিগুলোও পারাপারে দ্বিগুন সময় লাগছে। এ কারনে ঘাটে গাড়ির জট সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিটিসি) সূত্র জানায়,চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথে যানবাহন পারাপারের জন্য ৭টি ফেরি রয়েছে। মেঘনা নদীতে স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফেরি কিশোরী,কামিনি ও কস্তুরি চলাচল করতে পারছে না। দিনে রাতে জোয়ার-ভাটার সময় ১২ হতে ১৫ ঘন্টা ফেরি তিনটি স্রোতের বিপরিতে চলতে পারছেনা।
আর শরীয়তপুরের নরসিংহপুর থেকে ফেরিগুলো ছেরে চাঁদপুরের বহরিয়ারটেক হয়ে উজানে গিয়ে মেঘনা পাড়ি দিতে হচ্ছে। এ কারনে ৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলতে হয়। এখন ওই নৌপথ পাড়ি দিতে দুই হতে আড়াই ঘন্টা সময় লাগছে। আর গাড়ি পারাপার করা যাচ্ছে ২৫০ হতে ৩০০।
প্রতিটি ফেরি ২৪ ঘন্টায় ৬টি হতে ৭টি ট্রিপ দিতে পারত। নরসিংহপুর ফেরিঘাট হতে চাঁদপুরের হরিনা ফেরিঘাটে পৌঁছতে আগে এক ঘন্টা সময় লাগত। প্রতি দিন ৪৫০ হতে ৫০০ যানবাহন পারাপার করা যেত।
দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার,স্থলবন্ধর বেনাপেল,ভোমরা, নৌবন্দর মোংলা ও পায়রাবন্দরের পন্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন শরীয়তপুর- চাঁদপুর সড়ক দিয়ে চট্রগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করে। দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা চট্রগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় পন্যসামগ্রী আনা-নেয়া করতে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথ ব্যবহার করেন।
সম্প্রতি পদ্মা সেতুর পিয়ারে ফেরিতে ধাক্কা দিলে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। আর পদ্মায় স্রোত বৃদ্ধি পেলে ওই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ কারনে চাঁদপুর-শরীয়তপুর নৌপথের নরসিংহপুর ফেরিঘাটে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। আর ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ও পারাপারে দ্বিগুন সময় লাগার কারনে নরসিংহপুর ঘাটে গাড়িরজট সৃষ্টি হয়েছে। রোববা সড়ক ও ফেরিঘাটের টার্মিনালে অন্তত তিন শতাধিক গাড়ি আটকা পরেছে।
যশোরের- চট্রগ্রামে যাতায়াতকারি ট্রাক চালক
আব্দুর রহিম বলেন,বাংলাবাজার ঘাট থেকে ফেরি ছারছে না। দৌলদিয়ায় গাড়িরজট। আর নরসিংহপুর ঘাটে স্রোতে ফেরি চলতে পারছে না। কখন ফেরিতে উঠতে পারব তা বুঝতে পারছি না। আল্লাহই জানেন আমাদের এ দুর্ভোগের শেষ কোথায়।
ফেরি কিশোরীর চালক গোলাম সারওয়ার বলেন,নদীতে প্রচন্ড স্রোত আর কচুরিপনা। যার কারনে ফেরি চালাতে পারছিনা। দিনের বেশির ভাগ সময়ই ঘাটে বসে থাকতে হচ্ছে। জোয়ারের সময় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে স্রোত কিছুটা কমে আসে তখন ফেরি চালাতে পারি।
নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ইজারাদার ও চরসেন্সাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিতু মিয়া ব্যাপারী বলেন,দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ঢাকা ও চট্রগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য পদ্মা ও মেঘনা নদীর ফেরিঘাটগুলো গুরুত্বপূর্ন। এ নৌপথে অনেক পুরাতন দুর্বল ফেরি চলাচল করে। যার কারনে বর্ষা আসলেই ফেরি চলালে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরিন নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিটিসি) নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন বলেন,স্রোতের কারনে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। প্রতি ৬ ঘন্টা পরপর জোয়ার-ভাটা হয়। তখনই নদীতে স্রোত বেশি থাকে আর ফেরি চলাচল করতে পারে না। এ কারনে এ নৌপথের ৩টি ফেরি দিনে অন্তত ১২-১৫ ঘন্টা বন্ধ রাখতে হয়। স্রোত কমে গেলে পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।