বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভারতের অক্সিজেন রফতানি বন্ধ: সামাল দিতে পারবে বাংলাদেশ

ভারতের অক্সিজেন রফতানি বন্ধ: সামাল দিতে পারবে বাংলাদেশ
ভারতের অক্সিজেন রফতানি বন্ধ: সামাল দিতে পারবে বাংলাদেশ

হঠাৎ অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। গত চারদিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে অক্সিজেনবাহী কোনো গাড়ি আসেনি। করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় ভারতে অক্সিজেন সংকটের কারণে এর রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
করোনার সংক্রমণ বাংলাদেশে বাড়লেও এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি, তা সামাল দেয়ার মতো অক্সিজেন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। তবে কোনো কারণে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে গেলে সংকটের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্কের জায়গা থেকে নয়, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সূত্র ধরে এই ক্রান্তিকালে সীমিত পরিসরে হলেও তারা অক্সিজেন রফতানি সচল রাখবে।

দেশের চিকিৎসাখাতে ব্যবহৃত অক্সিজেনের চাহিদার বড় একটি অংশ ভারত থেকে আমদানি হয়। প্রতি মাসে শুধু বেনাপোল বন্দর দিয়েই আমদানি হয় প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন অক্সিজেন। করোনাকালে বেড়েছে অক্সিজেনের চাহিদা। এর মধ্যেই বাংলাদেশে হঠাৎ আমদানি বন্ধ করে দেয় ভারত।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক খলিলুর রহমান বলেন, রোগী ভর্তির পরিমাণ এখন কমে গেছে। এটি ভালো লক্ষণ। এখন পর্যন্ত অক্সিজেনের কোনো সংকট হয়নি।

মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অক্সিজেনের চাহিদা বেশি ছিল। গত এক সপ্তাহে আমাদের রোগীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সে হিসাবে অক্সিজেনের চাহিদা কমে গেছে। এখন আমাদের যতটুকু অক্সিজেন প্রয়োজন, ততটুকু পাচ্ছি। বর্তমান উৎপাদন দিয়েই চলছে। এখন ১৭০ থেকে ১৮০টি শয্যা খালি রয়েছে।

অক্সিজেনের যোগান ও চাহিদা

বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন ১০০-১২০ টনের মতো অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু মার্চ মাসে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় সেই চাহিদা দৈনিক ৩০০ টন পর্যন্ত উঠেছিল। তবে সম্প্রতি সেটা আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে।

বাংলাদেশের একটি অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম অক্সিজেনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা বদর উদ্দিন আল হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগের তুলনায় বাংলাদেশে এখন অক্সিজেনের চাহিদা কিছুটা কমে এসেছে। আগের সঙ্গে তুলনা করলে বলা যায়, তিন ভাগের একভাগে নেমে এসেছে। তাই ভারত অক্সিজেন রফতানি বন্ধ করে দিলেও বাংলাদেশে কোনো সমস্যা তৈরি হবে না বলে আশা করছেন তিনি। তবে যারা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর, তাদের কিছুটা জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোয় যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন সরবরাহ করে, তারা নিজেরা কিছুটা উৎপাদন করলেও বড় অংশটি ভারত থেকে আমদানি করে।

বদর উদ্দিন আরো বলেন, অক্সিজেনের চাহিদা আরো বেড়ে গেলে আমরা শিল্পখাতের অক্সিজেন মেডিকেল খাতে পরিবর্তন করে নিয়ে আসবো। আরো যে কয়েকটি কারখানা অলস পড়ে আছে, সেগুলোও চালু করা যায়। আমরা এর মধ্যেই এমন দুটি কারখানা চালু করেছি। এরপরও প্রয়োজন হলে চীন, সিঙ্গাপুর থেকে অক্সিজেন আমদানি করা যাবে।

জানা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান শিল্পকারখানায় অক্সিজেন সরবরাহ করতো, তারা আপাতত সেখানে সরবরাহ বন্ধ করে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ করছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ে আশঙ্কা

বাংলাদেশে এখন প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৬২৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ১৫০ জনের।

অক্সিজেনখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক বেড়ে গেলে অক্সিজেনের চাহিদা আর যোগানের একটা সংকট তৈরি হতে পারে। কিন্তু তখনো বিকল্প উৎস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করার পথ বাংলাদেশের রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন পরিচালক ও মুখপাত্র ডা. মোহাম্মদ রোবেদ আমিন বলেন, ভারত অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ করলেও আমাদের কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। এরপরও আমরা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যারা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেন তৈরি করে, এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এর মধ্যেই আমরা কথা বলতে শুরু করেছি। প্রয়োজন পড়লে তারা হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ করবে।

ভারত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভারতের এই অক্সিজেন সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের আগাম পরিকল্পনা নেয়া উচিত। এছাড়া হঠাৎ কোনো সংকটের মুখে পড়ার আগেই বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

ভারতের অবস্থা দেখে বাংলাদেশের এখনই একটি পরিকল্পনা নেয়া উচিত বলে মনে করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, প্রথমে দেখতে হবে আমাদের দৈনিক রোগীর সংখ্যা কত, তাদের কতজনের অক্সিজেন প্রয়োজন হতে পারে, কী পরিমাণ অক্সিজেন লাগবে, আগামী ১৫ দিন বা এক মাসে আমাদের কতটা অক্সিজেন লাগবে ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিলে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতেও যেন অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত থাকে, যেখানে অক্সিজেন আছে কিন্তু রোগী কম, সেখানে রোগী বা অক্সিজেনের সমন্বয় নিশ্চিত করা ইত্যাদি ব্যবস্থাও নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।