সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
সোমবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ

ভারত জুড়ে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট এখন আতঙ্ক। সংক্রমণ প্রতিদিন তিন লাখ ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত হবার পর বেশি সময় আর মিলছে না। তাকে সরাসরি শশ্মানে নিতে হচ্ছে। ভারতের এনডিটিভি প্রতি মহুর্তে এমন ‘ব্র্যাকিং নিউজ’ সম্প্রচার করছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারত সামান্তে চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাঁর সভাপতিত্বে আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগে থেকেই ভারতের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ দিন মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকলেও পণ্যবাহী যানবাহন চলবে। তিনি বলেন, এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত, আমরা শুধু বাস্তবায়ন করছি। গতকাল রোববার ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক তিন লাখ ৪৯ হাজার ৬৯ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি মেনে কঠোরভাবে, নিয়ম মেনে ভারতের ‘নতুন ভ্যারিয়েন্ট’ থেকে জনগণকে সাবধান থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। আজ সোমবার থেকে আগামী ১৪ দিন সিমান্ত পারাপার বন্ধ রাখা হবে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিবিসি, সিএনএন এবং আলজাজিরা গতকাল রোববার দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে করোনার ভয়াবহতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করেছে। তাতে দেখানো হয়, বাবা মারা গেছেন। তার কিশোরী মেয়েটি হাসপাতালে মরদেহের বেড ধরে আহাজারি করছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, অক্সিজেন না পাবার কারণেই তার বাবার এমন মৃত্যু হয়েছে। এখন কে নেবে এই দায়িত্ব। পরিবারে বাবাই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ছোটভাই আর মাকে নিয়ে সে এখন কি করবে। তার মাও অন্য হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। এমন চিত্র পুরো ভারত জুড়ে। সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা দাঁড়িয়েছে হাসপাতালগুলোতে শতশত রোগি কিন্ত তাদের দেখার মতো কেউ নেই। কে কোথায় মারা যাচ্ছেন তা জানারও কেউ নেই। অন্যদিনে মরদেহ সৎকারে দীর্ঘ লাইন সবখানে। দিনরাত চিতার আগুন জ্বলছে। ভারতের হাসপাতালে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ৪ জন রোগি ব্যবহার করছেন। কারণ অক্সিজেন সঙ্কট তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য সীমান্ত বন্ধ রাখা হবে। গতকাল রোববার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত আপাতত বন্ধ রাখার আহবান জানান বিশেষজ্ঞরা। রোববার বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত এক আলোচনা সভার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম বলেন, আর কোনো বিপর্যয় এড়াতে এখন ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রাখা যদিও সরকারের ওপরের মহল থেকেই এ সিদ্ধান্ত আসবে। তিনি আরও বলেন, দেশে ভারতের ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি আছে কিনা এমন কোনো খবর আমাদের কাছে নেই। তবে দেশে নাইজেরিয়ার ভ্যারিয়েন্ট পাওয়ার কথা গণমাধ্যমেই জেনেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।