মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পকেট ও ১০ টাকার ইতিকথা: মনদীপ ঘরাই

Auto Draft
মনদীপ ঘরাই। ফাইল ফটো।

একটি ১০ টাকার নোট ও জিন্স প্যান্টের পকেটের কেমন গভীর সম্পর্ক তা হয়তো আমাদের তেমন জানা নাই। তবে এদের মাঝেও গভীর সম্পর্ক লুকিয়ে থাকতে পারে। সেই অজানা স্মৃতি বেরিয়ে এসেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনদীপ ঘরাই এর বাস্তবধর্মী লেখনীর মাধ্যমে।
তিনি লিখেছেন, আমি এখনও জিন্সের পকেটগুলো মাঝে মাঝে হাতড়ে দেখি। ভুল করে ফেলে যাওয়া টাকা রয়ে গেছে কি না! আগে থাকতো। ভুলেই একটা দশ টাকা রয়ে যেতো পকেটের কোনায়। সাথে একটা বাদামের ধারালো খোসা। আর দু-এক দানা বালি। পকেটে এই বালি কোত্থেকে আসে জানা হয়নি কখনো। দশ টাকার নোটটা জিন্সের সাথে ধুয়ে নিতো নিজেকে। তারপর শুকাতো। অনেক অনেক দিন পর সম্পূর্ণ কোঁচকানো অবস্থায় হাতে আসতো নোটটা। এই রকম দশটাকায় বাস ভাড়া দিয়েছি কতো!
পকেট! আহা পকেট। কত গল্প যত্নে জমানো পকেট। এই পকেটে একসময় থাকতো লজেন্স আর এক টাকার কয়েন। কখনো কখনো গলে যেতো লজেন্স। সাবধানে বের করতাম কয়েনটা। আর একটা লজেন্স কেনার জন্য। তারপর লজেন্স খেয়ে মোড়কটা রাখতাম পকেটেই। ওটাও ভিজতো, শুকাতো, রঙ হারাতো।
এরপর পকেটে ঢুকলো পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড। সাথে কিছু টাকা। তারপর কবিতা, সাথে দু-একটা চিঠি। কখনো গোলাপ, কখনও বা ভুলে যাওয়া বিদ্যুতের বিল।
সবশেষে আইডি কার্ড ঢুকেছে পকেটে। জন্মের বহু বছর পর আমাকে জগতের সাথে নতুন করে পরিচয় করাতে। বদলেছে আইডি, বদলেছে পরিচয়।
ভরা পকেটের ঠিক ওপারেই আবার ফাঁকা পকেটের আখ্যান। বয়স বেড়ে যাক, কিংবা শৈশব; ফাঁকা পকেটের গল্পটা সবারই থাকে। ফাঁকা পকেটের আঘাতের উত্তরে সাহস ফিরে পেতে কিছু অকাজের মানুষের ভিজিটিং কার্ড আর পরীক্ষার পুরাতন প্রশ্ন দিয়ে বহুবার ভরে রেখেছি পকেট। অন্যরকম মিথ্যে সান্তনার জন্য। শুধু কি তাই?
পকেটে হাত ভরে অস্বস্তি ভয়গুলো লুকিয়ে রেখেছি বহুবার।
ওই এক পকেটই তো আছে সব লুকোবার জন্য। যুগ যে আধুনিক হচ্ছে, কোন দিন দেখা যাবে পকেট ছাড়া প্যান্টের চল এসে যায়! সেদিন এতো এতো আবেগ আর স্মৃতি কোথায় জমাবে সবাই?
পকেট, টাকা ও শৈশব স্মৃতি স্মৃতির দেয়ালে দাগ কাটে কিন্তু পিছনে ফিরে দেখার সুযোগ থাকে না। অনেক নতুন কিছু দেখতে দেখতেই নতুনের মেলায় হারিয়ে যাই আমরা। এমনটাই শিক্ষা এসেছে মনদীপ ঘরাই এর এই যুগপযোগী লেখার মাধ্যমে। এমন বাস্তবমূখী আরো লেখা পেতে অধির আগ্রহে থাকবে পাঠক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।