বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনাভাইরাস: একটি পর্যালোচনা

করোনাভাইরাস: একটি পর্যালোচনা

করোনাভাইরাস বা কোভিট-১৯ সারা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই ভাইরাস শত শত কোটি মানুষকে বন্দি করেছে ঘরের মধ্যে। বর্তমান বিশ্বে প্রতি মিনিটে চারজন মানুষ মারা যাচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে প্রায় ৯০ জন। জাতিসংঘের মহাসচিব ও পশ্চিমা বিশ্বের বড় বড় বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এত বড় বিপদ বা চ্যালেঞ্জ পৃথিবীবাসী আর প্রত্যক্ষ করেনি। বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকার নাগরিকদের প্রতি মুর্হূতে মৃত্যু তাড়া করছে। তারা প্রতি মুহূর্ত উদ্বেগ, উৎকন্ঠার মধ্যে কাটাচ্ছে। কেউ নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারছে না যে, সে আক্রান্ত হবে না; মারা যাবে না। কোটি কোটি বনি আদমের অনাহার ও অর্ধাহারে দিনাতিপাত মহামারীর সাথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এর সাথে আরো যোগ হয়েছে পঙ্গপাল। এ যেনো মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। যদি এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হয় তাহলে করোনার পাশাপাশি পৃথিবীবাসীর একটি বড় অংশ না খেয়ে মারা যেতে পারে। বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার সাথে পাল্লা দিয়ে খাদ্য সঙ্কট মারাত্মকরূপ নিতে পারে। অধিকন্তু যে সব অঞ্চলে পঙ্গপাল হানা দিয়েছে সে সব অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। জগতবাসীর জন্য এত দুঃসংবাদের মধ্যে দুটি ভালো দিক লক্ষনীয়। এক. আধুনিক সভ্যতার উন্মেষ ঘটার পর এই প্রথম বিশ্বে সবচেয়ে কম অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং সব ধর্মের মানুষ কিছুটা হলেও আল্লাহমুখী হয়েছে। দুই. শিল্প, কল-কারখানা, গাড়ি, ট্রেন, বিমান, জাহাজসহ সব ধরনের যান্ত্রিক কর্মকান্ড কম হওয়া বা বন্ধ থাকার কারণে বাতাসে কার্বন নিঃসরণ কম হচ্ছে ফলে বায়ুমন্ডল দূষণমুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ওজোনস্তরে অব্যহত ফুটোতৈরি সাময়িকের জন্য হলেও বন্ধ আছে। করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ও পত্র পত্রিকায় ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে বক্ষমান নিবন্ধটি সে রকমই একটি প্রয়াস।
করোনাভাইরাস একটি মহামারী; যা সারা বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। প্রশ্ন হলো: বিশ্ব এ রকম একটি অবস্থার সম্মুখীন কেনো হলো? এ ব্যাপারে আল-কুরআনের ভাষ্য হলো: মহান আল্লাহ বলেছেন, মানুষের কৃতকর্মের কারণেই জলে-স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পরে। যার ফলে তাদেরকে (মানুষকে) কিছু কিছু কাজের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে। সূরা রূম, আয়াত-৪১। সুনানে ইবনে মাজাহ-এর একটি হাদিসে রাসূলে আকরাম সা. বলেছেন, যখন কোনো জাতির ভেতর অশ্লীলতা ব্যাপকতা লাভ করে তখন মহান আল্লাহ সেই জাতির উপর মহামারী, প্লেগ পাঠিয়ে দেন। যখন অশ্লীলতা সহজ লভ্য হয়, ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, অশ্লীলতাকে স্বাভাবিক মনে হয়, অপরাধ মনে হয় না তখন মহান আল্লাহ সেই জাতিকে শাস্তি দেয়ার জন্য মহামারী পাঠিয়ে দেন। সূরা বাকারার ১৫৫ নং আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, আমি তোমাদের পরীক্ষা করবো ভয়ভীতি, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনহানি এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। এত ক্ষতির পরও যে সব মুমিন ধৈর্য্য ধারণ করবে তাদেরকে সুসংবাদ দিন। মহান আল্লাহ আরো বলেছেন, তোমাদের উপর যে সব বিপদ-আপদ আসে তা সবই তোমাদের কৃত-কর্মের ফল (পাপের ফসল) স্বরূপ। তবে অধিকাংশ পাপই মাফ করে দেয়া হয়। অর্থাৎ, অধিকাংশ পাপের শাস্তি মহান আল্লাহ মাফ করে দেন, শাস্তি অবতীর্ণ করেন না। সূরা আশ শূরা, আয়াত নং ৩০। রাসূলে আকরাম সা. আরো বলেছেন, বিপদ ও পরীক্ষা যত কঠিন হবে তার পুরস্কারও তত মূল্যবান হবে। মহান আল্লাহ যখন কোনো গোষ্ঠিকে ভালোবাসেন তখন তাদের অধিক যাচাই বাচাই ও সংশোধনের জন্য বিপদ ও পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। অতঃপর মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তকে যারা সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেন এবং ধৈর্য্য ধারণ করেন মহান আল্লাহ তাদের উপর সন্তুষ্ট হন। আর যারা এ বিপদ ও পরীক্ষায় আল্লাহর উপর অসন্তুষ্ট হন মহান আল্লাহর তাদের উপর অসন্তুষ্ট হন। ইবনু মাজাহ, কিতাবুল ফিতান, হাদিস নং-৪০৩১। উপরোল্লিখিত আয়াতমালা ও হাদিস থেকে বুঝা যায়, বর্তমান বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া মহামারী মানুষের অপকর্মের ফসল এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দুনিয়াবাসীর জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। সুতরাং আমাদেরকে তাওবা করে মহান আল্লাহর পথে ফিরে আসতে হবে এবং মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে ধৈর্য্যের সাথে এ বিপদ মোকাবেলা করতে হবে।
হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলে আকরাম সা. বলেছেন, নেই কোনো ছোঁয়াচে রোগ, নেই কোনো কুলক্ষণ, পেঁচা সম্পর্কে অশুভ ধারণার কোনো সত্যতা নাই এবং সফর মাসকে অশুভ মনে করার কোনো কারণ নাই। তবে কুষ্ঠ রোগী হতে তোমরা পালিয়ে যাও যেমন বাঘ থেকে তোমরা পালিয়ে যাও। সহিহ বুখারি, কিতাবুত তিব্ব, হাদিস নং ৫৭০৭। অন্য একটি হাদিসে রাসূলে আকরাম সা. বলেছেন, নেই কোনো ছোঁয়াচে রোগ, নেই কোনো কুলক্ষণ, পেঁচা সম্পর্কে অশুভ ধারণার কোনো সত্যতা নেই এবং সফর মাসকে অশুভ মনে করার কোনো কারণ নেই। একজন বেদুঈন আল্লাহর রাসূল সা. কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সা. তাহলে আমার উটগুলির অবস্থা এমন হলো কেনো? এগুলি থাকে চারণ ভূমিতে। দেখতে বন্য হরিণের মতো সুন্দর ছিল। অতঃপর চর্মরোগে (ছোঁয়াচে) আক্রান্ত একটি উট আমার উটের পালের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তারপর সেগুলো (ভালো উটগুলো) চর্মরোগে (ছোঁয়াচে) রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন রাসূল সা. বললেন, তাহলে প্রথম উটটির মধ্যে রোগ সৃষ্টি করলো কে? সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭১৭। উল্লেখিত হাদিস দুটিতে ছোঁয়াচে রোগ নেই বলতে বুঝানো হয়েছে ছোঁয়াচে কোনো রোগ আল্লাহর হুকুম ছাড়া নিজের ইচ্ছায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে না। জাহেলী যুগে এই ধারণা বধ্যমূল ছিল যে, ছোঁয়াচে রোগ নিজের ইচ্ছায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বা এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বা এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীর কাছে চলে যায়। এখানে আল্লাহর কোনো কর্তৃত্ব কার্যকর নয়। রাসূলে আকরাম সা. জাহেলী যুগের ঐ ধারণা ভেঙ্গে দেয়ার জন্যেই এ রূপ বলেছেন। ছোঁয়াচে রোগ আছে এবং তা সংক্রামিত হয় বলেই আল্লাহর রাসূল সা. বলেছেন, কুষ্ঠ রোগী হতে তোমরা পালিয়ে যাও যেমন বাঘ থেকে তোমরা পালিয়ে যাও। সুতরাং উপরের হাদিসের ব্যাপারে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। ছোঁয়াচে রোগের ব্যাপারে আরো একটি হাদিস নিচে তুলে ধরা হলো। রাসূলে আকরাম সা. বলেছেন, যখন তোমরা শুনবে কোথাও প্লেগ রোগের প্রার্দুভাব দেখা দিয়েছে, তখন তোমরা সেখানে যেও না। আর প্লেগ মহামারী দেখা দেয়ার সময় যদি তোমরা সেখানে থাকো তাহলে সেখান থেকে বের হইওনা বা সেই স্থান ত্যাগ করো না। সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭২৮। এ থেকে আমাদের কাছে এ কথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হলো যে, ছোঁয়াচে রোগ আছে এবং সব রকমের ছোয়াচে রোগ থেকে বেঁচে থাকার জন্য ইসলাম আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে।
করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির যে সব উপায় উপকরণ আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো হোম কোরেন্টাইন। সবাই নিজ নিজ ঘরে সেচ্ছায় বন্দি থাকা। কারণ ছোঁয়াচে রোগ থেকে বাঁচার উপায় হলো আক্রান্ত ব্যক্তির সাহচার্য এড়িয়ে চলা। চিকিৎসক ও কর্তব্যরত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি তাদের কাছে না যাওয়া। কারণ তাদের স্পর্শে গেলেই আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং ছোঁয়াচে রোগের প্রার্দুভাব চলাকালীন হোম কোরেন্টাইন থাকাই এ রোগ থেকে বাঁচার অন্যতম উপায়। আজ প্রায় সারা বিশ্বের শত শত কোটি মানুষ হোম কোরেন্টাইনে আছে। প্রশ্ন হলো: হোম কোরেন্টাইন সম্পর্কে ইসলামের কি কোনো নির্দেশনা আছে? এর উত্তরে বলা যায়, হোম কোরেন্টাইন সম্পর্কে ইসলামে অনেক সুন্দর দিকনির্দেশনা রয়েছে। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি প্লেগ রোগ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সা. কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানালেন, এর সূচনা হয়েছিল আযাবরূপে। মহান আল্লাহ যাদের উপর চান তাদের উপর এ আযাব পাঠান। কিন্তু আল্লাহতা‘আলা ঈমানদারদের জন্য তা রহমত বানিয়ে রেখেছেন। কোথাও যদি প্লেগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে, যে বান্দা জেনে বুঝেই সে শহরে অবস্থান (কোরেন্টাইন) করে যে, আল্লাহতা‘আলা ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তা ব্যতীত আর কোনো মুসিবত তার উপর আসবে না, তবে সে শহীদের সওয়াব লাভ করবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৩৪। এ হাদিসে আক্রান্ত এলাকায় যে সব মুমিন পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিলেন তারা ঐ শহর থেকে সরে না গিয়ে ঐ শহরেই হোম কোরেন্টাইনে থাকবে তাদের পুরস্কারের কথা বলেছেন।
করোনাভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সবাইকে হোম কোরেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্বভাবতই একটি প্রশ্ন প্রতিটি মুসলিম মানসে উঁকি দিচ্ছে তা হলো আমরা কি তাহলে জামা‘আতে নামাজ পড়বো না? যেহেতু করোনা একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি প্রাণঘাতী মহামারী। আমরা জানি না কে এই জীবাণু বহন করছে। তাছাড়া মসজিদে একজন ব্যক্তি নামাজ পড়ার পর অন্য ব্যক্তি আবার সে জায়গায় নামাজ পড়লে তাতে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি থেকে যায়। যেহেতু ইসলামে এ ব্যাপারে রুখসত রয়েছে এবং হাদিসের শক্তিশালী দলিল রয়েছে তাই এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। এ মহামারী চলাকালীন সময়ে প্রতিটি মসজিদে নিয়মিত আজান দেয়া এবং একবারেই ছোট পরিসরে জামা‘আত চালু রাখা যেতে পারে। যারা মসজিদের একেবারেই কাছে থাকেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ শুধু তারাই যাবেন। যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি বা অন্য কোনো জটিল রোগ আছে তারা এ সময় মসজিদে যাবেন না। বিশেষত ষাটোর্ধ ব্যক্তিরা মসজিদে না গিয়ে নিজ বাড়িতে পরিবারের লোকজন নিয়ে জামা‘আতে নামাজ পড়বেন। যারা মসজিদে যাবেন তারা মিশে মিশে না দাঁড়িয়ে একটু ফাঁক করে দাঁড়াবেন। মসজিদে বেশি সময় দেরি করবেন না। শুধু ফরজ পড়ে সুন্নত বাড়িতে পড়বেন। তবে কোনো এলাকায় যদি এ মহামারী ব্যাপক হয় তাহলে মসজিদে শুধু আযান হবে। ইমাম মুয়াজ্জিন মসজিদে নামাজ পড়বেন। অন্য কেউ যাবেন না।
করোনা বা যে কোনো মহামারীতে কোনো ঈমানদার মারা গেলে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। হাফসা বিনতে শিরীন রা. বলেন, আনাস ইবনে মালেক রা. আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ভাই ইয়াহহিয়া কী রোগে মারা গেছে? আমি জবাব দিলাম, প্লেগ রোগে। তিনি বললেন, রাসুলে আকরাম সা. বলেছেন, প্লেগ রোগ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য শাহাদাত। অর্থাৎ, যদি কোনো মুসলিম প্লেগ রোগে মারা যায় তাহলে সে শহীদের মর্যদা পাবে। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৩২। অত্র হাদিসে প্লেগ বলতে মহামারী বুঝানো হয়েছে। আবু হুরাইরা রা. রাসূলে আকরাম সা. থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ এবং প্লেগ রোগে মৃত্যু বরণ করলে সে শহীদ। সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫৭৩৩।
একজন মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে তাকে জানাজা ও দাফন করা ফরজে কেফায়। সব মুসলমানের পক্ষ থেকে অল্প কয়েক জন আদায় করলেই তা আদায় হয়ে যাবে। বর্তমানে করোনার ভয়ে মানুষ জানাজা বা দাফন কাজে অংশ নিতে আগ্রহী নয়। সুতরাং প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে, তাহলে তাকে দাফন বা জানাজা দিবে কীভাবে। প্রথমত কথা হলো, ৪ এপ্রিল ২০২০ তারিখে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি স্ট্যেটমেন্ট প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে কোনো ভাইরাস ছড়ায় না। সুতরাং মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেয়া, দাফন করা বা জানাজা করায় কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হলো জানাজা নামাজে বেশি লোক সমাগম হলে সেখানে যদি কোনো সংক্রমিত ব্যক্তি উপস্থিত হয় তাহলে তার থেকে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার একটি আশঙ্কা সৃষ্টি হয়। সুতরাং এ ব্যাপারে ইসলামের বিধান হলো যতদূর সম্ভব কম সংখ্যক লোক জানাজায় উপস্থিত হবে। কম এর সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো ইমাম ব্যতীত দুইজন উপস্থিত হওয়া।
মহান আল্লাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মহামারী বা আযাব পৃথিবীবাসীর উপর নাজিল করেন তাদেরকে সতর্ক করার জন্য। হেদায়েত লাভের জন্য। ইতোপূর্বে বিভিন্ন নবী রাসূলদের আ. যুগেও বিভিন্ন মহামারী দিয়েছেন তাদেরকে সতর্ক করার জন্য। যদি তারা সতর্ক হয়েছে তাহলে মহান আল্লাহ তাদের উপর থেকে মহামারী বা আযাব তুলে নিয়েছেন। যদি সতর্ক বা হেদায়েতের দিকে ফিরে না আসতো তাহলে মহান আল্লাহ তাদেরকে গজব নাজিল করে ধ্বংস করে দিতেন। আ‘দ, সামুদ ও নুহ আ. এর বংশধরসহ বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন জাতিকে আল্লাহ ধ্বংস করে দিয়েছেন। কিন্তু রাসূলে আকরাম সা. এর দু‘আর কারণে মহান আল্লাহ শেষ জামানার উম্মতদের একেবারে ধ্বংস করবেন না তবে বিভিন্ন রকমের মহামারী বা দুর্যোগ দিয়ে সতর্ক করবেন। আজকের মহামারী বিশ্ববাসীকে সতর্ক করার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি শক্ত সিগন্যাল। এ রকম সিগন্যাল মহান আল্লাহ ইতোপূর্বে আরো দিয়েছেন। যেমন মরণব্যাধি রোগের মধ্যে রয়েছে স্প্যানিশ ফ্লু, গুটি বসন্ত, কলেরা, হলুদ জ্বর, জিকা ভাইরাস, কুষ্ঠরোগ, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া, প্লেগ, যক্ষ্মা, ইবোলা, টাইফয়েড, হাম ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে, সাইক্লোন, বন্যা, সুনামি, ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত, খরা ইত্যাদি। মহান আল্লাহর হুকুমে এগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলকে বিভিন্ন সময় ক্ষত-বিক্ষত বা এলামেলো করে দিয়েছে। ১৩৩৪ সাল থেকে ১৩৩৯ সাল পর্যন্ত এশিয়া ও ইউরোপে প্রায় পাঁচ কোটি লোক প্লেগে মারা যায়। ঐ সময় ইতালির ফ্লোরেন্স শহরেই মারা গিয়েছিল ৯০ হাজার মানুষ। ১৫১৯ সালে বর্তমান মেক্সিকোতে স্মল পক্স বা গুটি বসন্ত ছড়িয়ে পড়লে দুই বছরে প্রাণ হারায় ৮০ লক্ষ মানুষ। ১৬৩৩ সালে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডবাসীর মাধ্যমে আমেরিকায় স্মল পক্স ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় দুই কোটি মানুষ মারা যায়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৭২০ সালে প্লেগ রোগ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ২০ কোটি মানুষ মারা যায়। ১৮২০ সালে এশিয়া ও ইউরোপে কলেরা ও গুটি বসন্তে মারা যায় প্রায় ৫ কোটি মানুষ। ১৮৬০ সালে আবার প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়লে ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ মারা যায়। ১৯১৮ ও ১৯১৯ সালে স্প্যানিস ফ্লু রোগ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে প্রায় ৫ কোটি মানুষ মারা যায়। এ ছাড়াও অনেক মহামারী আল্লাহ পাঠিয়েছেন এ পৃথিবীবাসীকে সতর্ক করার জন্য। আজকের করোনাভাইরাস ঐ সব মহামারীর ধারাবাহিকতা মাত্র। সুতরাং সময় থাকতে আমাদের তাওবা করা উচিত।
লেখক: পরিবেশবিদ ও কলাম লেখক।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।