বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি
বুধবার, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

এ শুন্যতা কখনো পূরন হবার নয়

এ শুন্যতা কখনো পূরন হবার নয়
এ শুন্যতা কখনো পূরন হবার নয়

সহস্র সন্তানের বিশাল এক পরিবার আর রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যপ্তিময় এক পরিমন্ডলকে গভীর শুন্যতায় নিমজ্জিত করে চিরদিনের জন্য চলে গেলেন একজন আজীবন সংগ্রামী মা। তার চলে যাবার শুন্যতা কোনদিন পূরন হবার নয়। আমাদের সকলের প্রিয় “কাকি”, চিরচেনা কাকিমা, শৈশব-কৈশরের হাজারো আবদারের ভরসাস্থল, আমার মত হাজারো সন্তানের মহীয়সী জননী আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক জননেতা আব্দুর রব মুন্সি স্যারের প্রিয়তমা সহধর্মীনি, এতদাঞ্চলের সকলের চিরপরিচিতা তাসলিমা বেগম ডোরা কাকি আমাদের সকলকে কাঁদিয়ে, গভীর শোক সাগরে ভাসিয়ে, পাভেল-রুবেলের মতই তার হাজারো সন্ততানকে এতিম করে একেবারেই চলে গেলেন স্বর্গালোকের সুখতারা হয়ে না ফেরার দেশে। গত ২৬ মে মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টায় রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন কিডনীর জটিল রোগে ভুগছিলেন কাকি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

১৯৭৪ সালে তখনকার তরুন উদীয়মান জননেতা আব্দুর রব মুন্সির সাথে তাসলিমা বেগম ডোরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ৬০’র দশকে আব্দুর রব মুন্সি তখন বৃহত্তম ফরিদপুর অঞ্চলের বাম ঘরোনার এক তুমুল আলোচিত ছাত্রনেতা। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঝড় তোলা বক্তা। ৬৪ সালে রব স্যার মাদারীপুর নাজিম উদ্দিন কলেজের ভিপি নির্বাচিত হবার পর তিনি গোটা ফরিদপুরে ছাত্র রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তী রূপে বিপ্লবের লাল পতাকা হাতে নিয়ে চষে বেড়াতেন। তখন পরিচয় হয় গোপালগঞ্জের আরেক সমাজতন্ত্রবাদী ডাকসাইডেট নেতা লেবু মুন্সির সাথে। লেবু মুন্সির ছোট বোন তাসলিমা ডোরাও তখন গোপালগঞ্জে ছাত্র ইউনিয়নের তুখোর কর্মী ছিলেন। সেই ডোরা এক সময়ে বধু হয়ে আসেন আব্দুর রব মুন্সির কুড়ে ঘরে।

সংসার জীবনে ডোরা কাকি কখনো প্রাচুর্যের স্বাদ পাননি। আজীবন সংগ্রামী এক নারী ছিলেন তিনি। সংসারের ঘানি টানতে এক সময় তিনি সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। প্রথমে ৭৫ সালের শেষ দিকে যোগদান করেন সরকারের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে। কয়েক বছর পর চাকুরী পরিবর্তন করে যুক্ত হন সমাজ সেবা অধিদপ্তরে। রব মুন্সী-ডোরা দম্পতিতে ৬ জন সন্তান জন্ম নিলেও তাদের প্রথম পুত্র সন্তানটি মারা যায়। এরপর তানিয়া, সোনিয়া, সুফিয়া,পাভেল ও রুবেল একে একে কাকিমার কোল আলোকিত করে।

রব মুন্সি স্যার সারাটা জীবনই কাটিয়ে দিলেন রাজনীতিতে। ডোরা কাকি ছিলেন তার ছায়াশক্তি। ছিলেন রাজনীতিতে এক প্রবল অনুপ্রেরণা। ডোরা কাকি ছিলেন ঘোর অমানিশার রাতে রব স্যারের রাজনীতির আলোক বর্তিতা। এত কষ্ট, এত ঝঞ্ঝা ছিল স্যারের রাজনৈতিক জীবনে, তবুও কখনো দমে যাননি কাকি। অনেকগুলো সন্তানেরর পড়া লেখার ভার (নিজের ও গোটা মুন্সি পরিবারের), সরকারি চাকুরী, হতাশাগ্রস্ত শত শত দলীয় কর্মী, স্কুলের অগনিত শিক্ষার্থীদের আবদার-অনুযোগ সব কিছু নিজের ধৈর্য্য আর বিচক্ষনতা দিয়ে মোকাবেলা করতেন কাকি। প্রচন্ড এক সহ্য ক্ষমতা ছিল কাকির।

১৯৮৫ এবং ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের পর সবচেয়ে দুঃসময় মোকাবেলা করতে হয়েছে রব স্যারের রাজনৈতিক জীবনে। এ সময়গুলোতে নানান মামলা মোকদ্দমা নিয়ে দৌড়াতে হতো স্যারকে। কিন্তু সব কিছু সামলে রাখতেন কাকি। রফিক মৌলভীর দোচালা টিনের ভাড়া ঘরের বাসায় সুর্যোদয় থেকে গভীর রাত অবধি অসংখ্য সমস্যাগ্রস্ত মানুষের ভীর থাকতো। দাদপুরের সেকান্দার হাওলাদার, শাহেবালি সরদার, বিনোদপুরের গনি মিয়া মাদবরের মত মুরুব্বীরা অনেক সমস্যা আর মামলা মাথায় নিয়ে আসতেন স্যারের কাছে। স্যার যখন থাকতেননা, তখন সব শুনে ন্যুনতম একটা শান্তনা দিয়ে হলেও সবাইকে সামলে নিতেন কাকি।

কত কষ্টইনা করে গেছেন গোটা জীবনে। কাকির হাতের এক কাপ লাল চা আর এক বাটি মুড়ি খাননি এ অঞ্চলের ছাত্র থেকে অভিভাবক, নেতা থেকে কর্মী এমন লোক বিরল। কোন দল বা মত ছিলনা কাকির কাছে। সবাইকে এক নজরেই দেখতেন তিনি। তাদের রাজনীতির চরম প্রতিপক্ষ, এমন পরিবারের সদস্য বা সন্তান যারা আংগারিয়া হাই স্কুলে পড়া লেখা করেছে, তারা সবাই ছিল কাকির সন্তানের মতই।

অল্প আয়ের সংসারে হোটেলের মত সব সময় চুলা জ্বলতেই থাকতো। কেউ এলে মুখ দেখেই কাকি বলে দিতে পারতেন, কে অভুক্ত আর কে খেয়ে এসেছে। ক্ষুধা নিয়ে কেউ কোন দিন কাকির বাসা থেকে বিদায় নিতে পারেনি। আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করেছি, তখন আমাদের নিরাপদ অভয়াশ্রম ছিল কাকির আচঁল। রাত দুইটার সময়ও আমাদের নিজ হাতে খাইয়েছেন কাকি। কখনো এতটুকু বিরক্তি দেখিনি তার ভেতর।

কাকিকে নিয়ে লিখতে গিয়ে অাবেগমথিত হয়েছি বার বার। ঠিক মত হাত চলছিলনা। কয়েকবার লেখাটা এডিট করেছি। সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল। এত যে স্মৃতি কাকিকে নিয়ে জমা আছে, তা হয়তো কোন কালেও প্রকাশের সুযোগ হবেনা।

৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ছাত্র রাজনীতির পেছনে হেটেছি। ৮০ সাল থেকেই রব স্যারের ছাত্র হয়েছি। সেই থেকেই কাকিকে বিরক্ত করতে শুরু করেছিলাম। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে এত মর্জি করেছি কাকির সাথে যার কিয়দাংশও করিনি নিজের মায়ের সাথে। গত ৪০ বছর থেকে কাকিকে দেখেছি খুব কাছ থেকে, জেনেছি মায়ের মত করে। অনেক স্মৃতির ভেতর থেকে কিছু কথা উল্লেখ না করলে অসমাপ্ত রয়ে যাবে আমার এই লেখাটি।

আশির দশকের মধ্যভাগে আংগারিয়া পূর্ববাজারে আনোয়ার কামাল ভাই একটি হোমিওপেথিক ডিসমেচারি খুলে বসেন। সেখানেই ছিল আমাদের দলীয় আড্ডার মুল ঠিকানা। ৮৯ সালের অাগষ্ট মাসের ৭ তারিখ থেকে শরীয়তপুর কলেজে আমাদের (ছাত্রলীগ) উপর দিয়ে বেশ ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। অনেক ঘটনা প্রবাহের পর ১২ আগষ্ট শনিবার সকাল প্রায় সাড়ে দশটায় কামাল ভাইর ডিসমেচারির ভেতরে ছাত্রলীগ করার অপরাধে আমাকে ২০/২৫ জনের একদল স্বশস্ত্র লোক নির্দয়ভাবে কুপিয়ে পিটিয়ে নিশ্চিত মৃত্যু ভেবে ফেলে রেখে যায়। আল্লাহর কৃপায় আমার কিছু স্বজনের সহায়তায় এ্যাম্বুলেন্স ডেকে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আমি বেঁচে যাই। মাথায় ১৮টি সেলাই লেগেছিল।

জ্ঞান ফেরার পর হাসপাতালের বিছানায় যখন প্রথম চোখ মেলি, তখন নিজের মায়ের মুখটি দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল। মাথায় ব্যান্ডেস, বাম হাতে ব্যান্ডেস, সারা শরীরে ভীষন ব্যথা নিয়ে নড়তে পারছিলামনা। হঠাৎ দেখি আমার ডান হাতটি যেন কার কোলের মধ্যে নিয়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। ভেবেছিলাম আমার মা এসেছেন। কোন রকমে একটু মাথাটা ঘুড়িয়ে দেখি ডোরা কাকি আমার শিয়রে বসা। দু’চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে তার কপোল ভিজে যাচ্ছিল। কাকির হাতের স্পর্শ পেয়ে আমি সব ভুলে গেলাম। মনে হলো আমার শরীরে আর কোন ব্যথাই রইলোনা। সেদিন আমার মায়ের স্থানটি পূরন করেছিলেন কাকি। কেউ আমাকে হাসপাতালে দেখতে যেতে সাহস পায়নি। শুধু ছুটে গিয়েছিলেন আমার বাবা আর কাকি।

১৯৯০ সালে দ্বিতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কলস প্রতীক নিয়ে রব স্যার প্রতিদ্বন্দিতা করেন। আমি স্যারের নির্বাচনী প্রচারনার জন্য নিজে তিনটি জারীগান রচনা করি। একশত শ্লোগান সমেত ১৪ মিনিটের একটি জ্বালাময়ী বক্তৃতা এবং তিনটি গানে নিজে কন্ঠ দিয়ে রেকর্ড করে একটি ক্যাসেট বের করি। এ কাজে আমাকে সহযোগিতা করেন গোলাম মোস্তফা, আমার বন্ধু কামাল, চুন্নু ফরাজী, শম্ভুনাথ পোদ্দার, আনোয়ার হাওলাদার, নাজমুল হাওলাদার, শেখ রাজ্জাক, আমার মামাতো ভাই মানিক মোল্যা সহ আরো অনেকে। আমার সেই ক্যাসেটিই ছিল স্যারের নির্বাচনের মূল প্রচারনা। জুলমত খানের রকেট মাইকের দোকান থেকে ক্যাসেটটি কপি করে রিক্সায় মাইক বেধে গোটা উপজেলায় প্রচার করা হতো। পুরো রেকর্ডিংটাই ছিল একটা বিস্ফোরণ। এরপর আমার উপর অনেক হুমকি আসতে শুরু করলো। আমার বাবা খুব দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরলেন। নির্বাচনের ৮/১০ দিন আগে আমার এক নিকটাত্মীয় কাকির কাছে এসে বললেন নজরুলকে মেরে ফেলতে পারে, ওকে কোথাও সড়িয়ে দিন। এ কথা শুনে কাকি খুক শান্তভাবে বললেন “ওরে মারতে হলি আমাকে সহ মারতে হবি। কোন্ কুত্তোর বাচ্চা ওরে মারবি তাকে আসতে বলুন। একেবারি আস্ত রাখবোনা”। কাকি সেদিন আমাকে যে সাহস যুগিয়েছিলেন তাতে আমাদের প্রচার স্পৃহা আরো বেড়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে শ্রমিক নেতা মতি-মান্নান সহ একটি টিম আমরা একসাথে কাজ করতাম। সেই নির্বাচনে আমরা হেরে যাই। ৭৫ দিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকি। সবার মন ভেঙ্গে গেলেও কাকি ছিলেন অদম্য সাহসী। চতুর্দিকের শত শত নির্যাতিত কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

১৯৯৩ সালের একটি ঘটনা। শরীয়তপুর সরকারি কলেজের তৃতীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১০ জুন। ছাত্রলীগের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী আমিন কোতয়াল, জিএস প্রার্থী আমার মামা তানভীর কামাল। আগের বছর নির্বাচনে আমিন কোতয়াল ও হাকিম খলিফা প্যানেল ছাত্রদলের কাছে পরাজিত হয়। জেদ চেপে বসে এবার ছাত্রলীগকে জেতাতে হবে। দিনরাত পরিশ্রম করছি। প্রায় প্রতিদিনই কলেজে সংঘর্ষ বাধে। নির্বাচনের আগের দিন ৯ জুন বুধবার। সকাল ১০ টায় ভেদরগঞ্জের ছয়গাও থেকে প্রচারনা শুরু করি। বুড়িরহাট, সুবচনি ধরে কালকিনির সুর্যমনি লক্ষ্মীপুর হয়ে প্রতিজন ভোটারের সাথে দেখা করে রাত প্রায় সাড়ে ১২ টায় এসে স্যারের বাসায় পৌছি। বর্তমান এই বাড়িটিই ছিল। চৌচালা একটি টিনের ঘর তুলে কেবল নিজ বাড়িতে থাকতে শুরু করেছেন স্যার। ১০/১২ জনের একটা টিম। সবাই ক্লান্ত, প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। রব স্যার তখনো জেগে ছিলেন, কয়েকজন প্রতিবেশী ও দলীয় কর্মী নিয়ে কথা বলছিলেন। কাকি ঘুমিয়ে পরেছেন। স্যারের কাছে সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরলাম। রাত তখন প্রায় শোয়া একটা। আমাদের কথার শব্দে কাকির ঘুম ভাঙ্গে। বিছানা ছেরে বারান্দায় এসে খুব মমতাভরা কন্ঠে কাকি আমাদের জিজ্ঞেস করলেন, তোরা সারাদিন কিছু খাইতে পেরেছিলি, রাতে খেয়েছিস? কেউ একজন বলে ফেললো, কাকি রাতে খাওয়া হয়নি। আর দেরী নেই। নীরা খালাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুললেন। পাতিলে ভাত কড়াইতে ডাল ছিল। ঝটপট কয়েকটা ডিম ভেজে ডাল গড়ম করে আমাদের প্রত্যেককে রাত দুইটার সময় নিজ হাতে খাওয়ালেন। এমন শত স্মৃতি আছে কাকিকে নিয়ে। যে স্মৃতিগুলো কোনদিনও ভুলতে পারবোনা, ভুলা সম্ভব নয়।

রব স্যার ১৯৭০ ও ৭৩’এ দুইবার সংসদ নির্বাচন এবং দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করে পরাজিত হলে দলে ভাটা চলে আসতে শুরু করে। কিন্তু কাকির সাহসিকতা, বিচক্ষণতা ও সদ্ব্যবহার সবাইকে চাঙ্গা করে রাখে। আমাদের অঞ্চলে এক সময় একটি প্রবাদ প্রচলিত হয়ে যায়। তা ছিল – “ওমুক নেতার রাজনীতি নষ্ট হচ্ছে তার বউর কারনে আর রব মুন্সির রাজনীতি টিকে থাকছে তার বউর কল্যানে”। তাসলিমা বেগম ডোরা কাকিকে নিয়ে লিখলে এমন বহু সত্য সঠিক ঘটনার কথা উল্লেখ করলেও শেষ হবেনা।

আমাদের সেই পরম পূজনীয়া মাকেই আমরা তার কিছু নিমকহারাম সন্তান জীবনের গোধুলী বেলায় এসে অনেক কষ্ট দিয়েছি। এইতো সেদিনও, গত ১০ নভেম্বর। স্যারের ৭৮তম জন্ম দিনের অনুষ্ঠানে শত শত দলীয় কর্মীর উপস্থিতিতে আমাদের দাম্ভিকতার শেষ তীরটি ছুড়ে দিলাম স্যার এবং কাকির বুকে। সেই ক্ষনে অামি সন্তর্পণে কাকির মুখের দিকে তাকালাম। গভীরভাবে লক্ষ্য করলাম, বিষাক্ত তীরের যন্ত্রনায় দুমড়ে মুচরে যাওয়া হৃদয়টি কাকির কষ্টে ভরা মুখে মুহুর্তেই ভেসে উঠলো। একটা কঠিন দীর্ঘশ্বাস চাপা পরে গেল কাকির অন্তরে। কাকি চলে গেলেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার সময়টাও আমাদের দিলেননা। ফাঁকি দিয়ে একেবারেই চলে গেলেন অ–নে–ক দুরে।

কাকির এক প্রিয় সন্তান অধ্যক্ষ ফজলুল হক মোল্যা ২৭ মে একটি ফেইজবুক লাইভ পেইজে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কাকির নামে একটি শিক্ষা বৃত্তি ট্রাষ্ট গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। আমি এ প্রস্তাবটি সর্বান্তকরণে সমর্থন জানিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের জন্য আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সকল এ্যালামনাই সহ অন্যান্য শুভাকাংখীদের এগিয়ে আসতে আহবান জানাচ্ছি।

৪৬ বছরের মধুর বন্ধন ছিন্ন করে, স্বামী-সংসার-সন্তান আর ইহ জগতের মায়া ত্যাগ করে আমাদের রব স্যারকে একা রেখে কাকি চলে গেলেন। সুদীর্ঘ জীবনের প্রেমময় স্মৃতি আকড়ে বেঁচে থাকা আমার স্যারের জন্য যে কতটা বেদনাবিধুর তা একটু চিন্তা করলে অনুভব করতে পারি। আসুন সবাই রাব্বি কারীমের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের স্যারকে প্রিয় হারানোর এই শোককে শক্তিতে পরিনত করে দেন। আল্লাহ যেন স্যারকে দীর্ঘকাল সুস্থ্যভাবে জনকল্যানে আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখেন।

আল্লাহর কাছে সবাই আরো দোয়া করুন, আমাদের মমতাময়ী নিরহংকারী কাকিমাকে আল্লাহ যেন ক্ষমা করে দেন। জান্নাতের উচ্চ মাকামে আল্লাহ যেন তাকে স্থান করে দেন। কাকির এতিম সন্তান পাভেল-রুবেলকে এই কষ্ট বহন করার শক্তি যেন আল্লাহ দান করেন।

 

কাজী নজরুল ইসলাম
সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী
প্রাক্তন শিক্ষার্থী
আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়।
মোবাইল নং – ০১৭১১-৯০৯৬৪৪
ইমেইলঃ kazinazrul71@gmail.com
০১-০৬-২০২০।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।