মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
মঙ্গলবার, ১৫ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

১৪ বছরেও প্রতিবন্ধী ভাতা মেলেনি আপন রাজবংশীর ভাগ্যে

১৪ বছরেও প্রতিবন্ধী ভাতা মেলেনি  আপন রাজবংশীর ভাগ্যে
১৪ বছরেও প্রতিবন্ধী ভাতা মেলেনি আপন রাজবংশীর ভাগ্যে

১৪ বছরেও প্রতিবন্ধী ভাতা মেলেনি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখর নগর ইউনিয়নের উত্তর পাউসার গ্রামের জেলে পাড়ার সত্য রাজবংশীর ছেলে আপন রাজবংশীর ভাগ্যে। জন্ম থেকেই আপনের আচরণ অন্যসব সাধারণ শিশুদের মত ছিল না। আপনের দুই পা ও হাতের আঙ্গুল গুলো জট লাগানো। প্রথম দেখাতেই যে কেউ বলতে পারে আপন স্বাভাবিক নয়। শিশু থেকে আপন রাজবংশী এখন ১৪ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী বালক। অথচ আপন ১৪ বছরেও তার এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নজরে পরেনি।
প্রতিবন্ধী আপনের মা চম্পা রাজবংশী বলেন, আমার দুটি ছেলে একটির বয়স ১৪ আরেকটির বয়স ৯ বছর। আপন জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। কিন্তু আমার এই প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য ১৪ বছরে কোন সরকারি-বেসরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইনি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা খোঁজখবর নিচ্ছে কিনা জানতে চাইলে চম্পা বলেন, আমাদের মেম্বার বলেছিল একটা কার্ড করে দিবে কিন্তু দেয় নাই।
চম্পা আরও বলেন, আমাদের সংসার চলে অনেক কষ্টে। ওর বাবা মাছ ধরে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালায়। প্রতিবন্ধী এই সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে আছি।
আপনের বাবা সত্য রাজবংশী জানান, আমার প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য ২ বছর আগে আমাদের মেম্বারের কাছের লোক শাহিনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার জন্য কয়েকবার অনুরোধ করেছিলাম। আশ্বাস দিয়েছিল হয়ে যাবে কিন্তু এ পর্যন্ত আর হয় নাই। এক বছর আগে আমাদের মহিলা মেম্বার রাশেদা বেগমের কাছে জন্মনিবন্ধনের কার্ড দিয়েছিলাম। বলেছিল কম্পিউটারে আবেদন করছি হয়ে যাবে তা এক বছরেও হয় নাই।
সমাজসেবা অফিসের তথ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ইউনিয়ন কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধীদের তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করে। তালিকা তৈরির কথা থাকলেও ১৪ বছরেও আপন রাজবংশী কোন সমাজ সেবা কর্মীর নজরে পরেনি। তাই তালিকায়ও নাম আসেনি।
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মতিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শেখরনগর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা কর্মী একেবারেই নতুন। স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সাথে কথা বললে সঠিক তথ্য জানা যাবে প্রতিবন্ধী তালিকায় তার নামে কার্ড আছে কিনা। যদি কার্ড না থাকে তাহলে আমরা তাঁর জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করব।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আসলাম হোসেন এর কাছে ফোনে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো প্রতিবন্ধীর পরিবারকে জিজ্ঞেস করার কথা বলেন। উত্তর পাউসার জেলেপাড়ার অনেকেই বলেন, প্রতিবন্ধী ছেলেটাকে নিয়ে এই পরিবারটা অনেক কষ্টে দিনাযাপন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।