বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১লা শাওয়াল, ১৪৪২ হিজরি
বৃহস্পতিবার, ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ঈদের সেমাই

নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ঈদের সেমাই
নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ঈদের সেমাই

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে লাচ্ছা-সেমাই তৈরির ধুম পড়েছে। জেলার বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী, জেলা সদরের মাইজদী, দত্তেরহাটের সেমাই কারখানাসহ অস্থায়ী কারখানাগুলোতে নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের উপকরণে তৈরি করা হচ্ছে ভেজাল লাচ্ছা-সেমাই। লাচ্ছা-সেমাইগুলো ভোক্তাদের চোখে মুখরোচক মনে হলেও এগুলো তৈরি হচ্ছে স্যাঁতস্যাঁতে মেঝে ও নোংরা পরিবেশে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সেমাইগুলো।
চৌমুহনী সেতুভাঙ্গার খাজা লাচ্ছা সেমাই, চৌরাস্তা বিসিক এলাকার পপুলার লাচ্ছা সেমাই, হাজীপুরের আনন্দ লাচ্ছা সেমাই, নোয়াখালী সদরের দত্তেরহাট রুচিকা লাচ্ছা সেমাই, চৌমুহনী বাজারে বর্ণফুল লাচ্ছা সেমাই কারখানাসহ কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, নোংরা পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে সেমাই। কর্মচারীদের মাথায় নেই ক্যাপ, হাতে নেই হ্যান্ডগ্লাভস। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে পা দিয়ে বানানো হচ্ছে খামির। এরপর অপরিষ্কার ডান ও বাম হাত দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সেমাইয়ের বল। বল তৈরির পর গরুর চর্বি ও পামওয়েলের মিশ্রণে নিম্নমানের ডালে ভাজার জন্যে প্রস্তুত করা হয় সেমাই। মেশানো হয় কৃত্রিম রঙ। এরপর শুরু হয় পোড়া তেলে সেমাই ভাজা। ভাজা শেষে তৈরি হয়ে যায় চকচকে ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা-সেমাই। মাঝে মাঝে এক সপ্তাহ পুরোনো তেলের সঙ্গে নতুন তেল মিশিয়ে সেমাই ভাজার কাজ চলে মাসের পর মাস। আবার মাঝে মাঝে দেশের নামী-দামী ব্র্যান্ডের সেমাইয়ের প্যাকেটে ঢুকানো হয় ভেজাল সেমাই। এরপর এ লাচ্ছা-সেমাইগুলো চলে যায় নোয়াখালীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কনসালটেন্ট (মেডিসিন) ডা.মুহাম্মদ জামাল উদ্দীন বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি লাচ্ছা-সেমাই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এ লাচ্ছা-সেমাই খেলে হার্টের সমস্যা, হার্ট অ্যাটাক, গ্যাস্ট্রিক-আলসারসহ কিডনির সমস্যাও হতে পারে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া বলেন, প্রায় এসব কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেমাই কারখানার মালিকরা সিন্ডিকেট করে ব্যবসা করেন। ফলে অভিযানের খবর পেয়ে কারখানা থেকে সরে যান। তবে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

মন্তব্য

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।