রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ভাইকে ফাঁসাতে চার মাসের সন্তানকে পুকুরে ফেলে হত্যা

ভাইকে ফাঁসাতে চার মাসের সন্তানকে পুকুরে ফেলে হত্যা
ভাইকে ফাঁসাতে চার মাসের সন্তানকে পুকুরে ফেলে হত্যা

বাগেরহাটের শরণখোলায় ভাইকে ফাঁসাতে চার মাসের কন্যাসন্তান নুপুরকে পুকুরে ফেলে হত্যা করেন পাষন্ড বাবা মজিদ মোল্লা (৩৫)। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ তাফালবাড়ী গ্রামে। বড় ভাইকে ফাঁসাতে তিনি এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘাতক মজিদকে আটক করেছে। এ ঘটনায় স্ত্রী মারুফা বেগম বাদী হয়ে সন্তান হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মৃত লতিফ মোল্লার ছেলে মজিদ মোল্লা দিনমজুরির কাজ করেন। নিজের কোনো জমি না থাকায় স্ত্রী আর তিন সন্তান নিয়ে একই গ্রামের নুরজাহান বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন তারা। সংসারে অভাবের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো তাদের। পাশাপাশি ১৫ কাঠা শরিকী সম্পত্তি নিয়ে বড় ভাই রশিদ মোল্লার সঙ্গে বিরোধ চলছে তার। সেই বিরোধের সূত্র ধরে নিজের অবুঝ সন্তানকে বড় ভাইয়ের পুকুরে ফেলে দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন ঘাতক মজিদ।
মামলার বাদী মারুফা বেগম বলেন, গত ৩০ মার্চ স্বামী মজিদ মোল্লা এবং ভাশুর রশিদ মোল্লার মধ্যে জমির বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর পর থেকে সে আনমোনা হয়ে চলাফেরা করতে থাকে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মাটিকাটার কাজ শেষে বাড়িতে এসে ছেলে নয়নকে (৯) সঙ্গে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমাকে স্থানীয় তাফালবাড়ী বাজারে ঔষধ কিনতে পাঠায়। এসময় মেঝ মেয়ে নবীছা (৬) ও চার মাসের নুপুরকে স্বামীর কাছে রেখে যাই। সেই ফাঁকে মেঝ মেয়েকে এক প্রতিবেশির বাসায় রেখে নুপুরকে নিয়ে ভাশুর রশিদ মোল্লার পুকুরে ফেলে দিয়ে আবার বাসায় চলে এসে চুপচাপ থাকে।
স্ত্রী মারুফা বেগম জানান, পরে ঔষধ নিয়ে এসে নুপুরকে না পেয়ে জানতে চাইলে স্বামী অসংলগ্ন কথা বলতে থাকেন। এক পর্যায় বলেন, নুপুরকে নিয়ে বড়ভাই রশিদের বাড়িতে গেলে অন্ধকারে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মেয়েটি পুকুরে পড়ে গেছে। একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে সেই পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় মেয়েকে উদ্ধার করে শরণখোলা হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে ভাশুর আ. রশিদ মোল্লা বলেন, আমাকে ফাঁসাতেই নিজের মেয়েকে আমার পুকুরে ফেলে রেখে যায়। কিন্তু পুলিশ তার কথা শুনে আসল ঘটনা বুঝতে পারে।
শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুর রহমান বলেন, মজিদকে আটকের পর বিজ্ঞাসাবাদে নুপুরকে পুকুরে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় স্ত্রী মারুফা বেগম বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহত শিশুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।