রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৯শে শাবান, ১৪৪২ হিজরি
রবিবার, ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শত বছর টিকে থাকা ভালোবাসার স্মারক

শত বছর টিকে থাকা ভালোবাসার স্মারক
বগুড়ার রুপজান বিবির সমাধি। ছবি: সংগৃহিত

বগুড়া শহরের সবচেয়ে বড় গোরস্থান নামাজগড় কবর খানার পূর্বপ্রান্তে একটি সমাধির নাম ফলকে রুপজান বিবির নামসহ কিছু অস্পষ্ট অক্ষরে লেখায় নাম না জানা এক ইংরেজ সাহেবের ভালবাসার স্মৃতি বহন করে টিকে আছে। নাম ফলক অনুসারে সমাধিটি তৈরী ১৯১৫ সালে। সুদৃঢ় কাঠামোর কারণে সংস্কার ছাড়াই ১০৬ বছর টিকে থাকলেও এখনই সংস্কার না করলে বর্ষাসহ নানা প্রাকৃতিক কারণে এটি এক সময় বিলীন হয়ে অপমৃত্যু হবে একটি অনুপম প্রেমের নিদর্শন।
নাম ফলকে না নিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, রুপজান বিবি ছিলেন তৎকালীন বৃটিশ রেল কোম্পানীর একজন গেটম্যানের (নাম জানা যায়নি) অনিন্দ্য সুন্দরী রুপসী কন্যা। কিশোরী কালেই তার রুপ লাবণ্যের কাহিনী ছড়িয়ে পড়ে মানুষের মুখে মুখে। ফলে চারিদিক থেকে বিয়ের সমন্ধ (প্রস্তাব) আসতে থাকে। মন:পুত না হওয়ায় ঝুলে থাকে তার বিবাহ।
এসময় বগুড়া রেলে যোগ দেয় এক তরুন ইংরেজ কর্মকর্তা। ওই কর্মকর্তার কানে যায় তাদের এক কর্মীর কন্যার রুপ সৌন্দর্যের কথা। ফলে তিনি ঘনঘন রুপজানদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করলে শহরময় রটে যায় রুপজান ও বিদেশী সাহেবের প্রেমের কাহিনী। অবস্থার প্রেক্ষিতে রুপজানের সাথে বিয়ে হয়ে যায় রুপজানের। সুখেই ঘর সংসার করার এক পর্যায়ে পেটে সন্তান আসে রুপজানের। তবে প্রসবকালীন জটিলতার কারণে রুপজানকে ট্রেন যোগে পাঠানো হয় কোলকাতায়। কারণ সে সময় বগুড়ায় গাইনী সংক্রান্ত চিকিৎসা ছিল না বললেই চলে। কিন্তু বিধিবাম বলে কোলকাতায় মারা যায় রুপজান বিবি। তার লাশ বগুড়ায় আসলে শোকাচ্ছন্ন হয়ে যায় বগুড়া। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন রুপজানের প্রেমিক স্বামী। তিনি রুপজানের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে নামাজ গড় এলাকায় এক বিঘা পরিমাণ জমিতে খনন করেন একটি দিঘী। দিঘীর পাড়েই সমাধিস্থ করা হয় রুজজানকে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বগুড়ার একজন ইতিহাস গবেষক ও সাধক আব্দুর রহিম বগরা বলেন, রুপজানকে দাফনের সময় ওই ইংরেজ সাহেব রুপজানের সব গহনা সমেত তাকে দাফনের ব্যবস্থা করেন। কেউ যেন সেগুলো চুরি করতে না পারে সেজন্য তিনি সমাধিটি ঢালাই করে তারপর সমাধির উপরি কাঠামো নির্মাণ করে দেন। কিন্তু তারপর ১০০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় এটি এখন ধ্বংসের পথে।
আব্দুর রহিম বগরার মতে এটি একটি মিনি তাজমহল। কারণ রুপজানের প্রেমিক ইংরেজ সাহেব তার স্বর্বস্ব ব্যয় করে এটি নির্মাণ করেছেন। এটি এখন একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। সরকারের এটি অধিগ্রহণ করা উচিত। তিনি জানান, রুপজানের স্বামী যে দিঘীটি খনন করে দিয়েছিলেন সেটা দখলকারীরা ভরাট করে ফেলেছে। সেটাও উদ্ধারে তৎপর হওয়া উচিত। রুপজান সম্পর্কে সাধারণ মানুষ তেমন কিছু না জানলেও তঙ্কর প্রকৃতির লোকেরা চেষ্টা করে সমাধি ভেঙে ভেতরের গহনাপাতি লুট করার।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।