শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিজরি
শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মোংলা বন্দরে ছয় মাসে বিদেশি জাহাজ এসেছে ৪৪০টি

মোংলা বন্দরে বিদেশ থেকে আসা জাহাজ। ছবি-দৈনিক হুংকার।

৪৪০টি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে দিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস পার করলো মোংলা বন্দর। চলতি অর্থবছরে বন্দর কর্তৃপক্ষের টার্গেট অনুযায়ী ১৫০০ জাহাজ আগমনের কথা থাকলেও গত ২ বছরের তুলনায় এ বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন কিছুটা কমেছে। ১১ মাস ধরে চলমান রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দায় ডলার সংকটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আমদানি-রপ্তানিতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ডলার সংকটে আমদানি রপ্তানি কমে যাওয়ায় দেশের দুই বন্দরে জাহাজ আগমনের হার কিছুটা কমেছে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দর দিয়ে বিদেশে পণ্য রপ্তানি শুরু হয়েছে যা পর্যায়ক্রমে বাড়বে। পরিবহন খরচ ও সময় সাশ্রয় হওয়ায় মোংলা বন্দরের উপর চাপ বেড়েছে।
তবে করোনা সংকট, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে ডলার সংকট এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বের সমুদ্র অর্থনীতিতে এক ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে করে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। তবে এ সংকট বেশিদিন থাকবেনা বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।
২০২১-২২ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ছিল ১ কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিকটন, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ৩২ হাজার ২৬৯ টিইউজ, বাণিজ্যিক জাহাজ আগমনের সংখ্যা ছিল ৮৯৬টি এবং এ বন্দর দিয়ে রিকন্ডিশ গাড়ি আমদানি করা হয়েছে ২১ হাজার ৪৮৪টি। অথচ ২০১৯-২০ অর্থবছরে সারাবিশ্ব যখন করোনার থাবায় বিপর্যস্ত সে বছরেই এ বন্দরে ৯৭০টি জাহাজ নোঙর করেছিল। বন্দরটি লোকসান কাটিয়ে লাভের ধারায় ফিরে এসেছে। পশুর নদীর আউটারবারে ড্রেজিং করার ফলে হারবাড়িয়া পর্যন্ত সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসতে পারে। ইনারবারে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে, যাতে বন্দর জেটিতে সাড়ে ৯ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসতে পারে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকল্প ও উন্নয়ন) মো. ইমতিয়াজ হোসেন জানান, বন্দরের উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ বাস্তবায়নে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ভারতের একটি প্রাইভেট কোম্পানীর সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা।
সাড়ে ৪ বছর মেয়াদী এই উন্নয়ন প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দর অনন্য উচ্চতায় চলে যাবে। ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে মোংলা বন্দর এগিয়ে যাবে।
তিনি আরো বলেন, ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ, কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ইয়ার্ড নির্মাণ, কন্টেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, সার্ভিস ভেসেল জেটি নির্মাণ, ৮টি জলযান সংগ্রহ, বন্দর আবাসিক কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি সুবিধা নির্মাণ, বন্দর ভবন এবং মেকানিকেল ওয়ার্কশপ সম্প্রসারণ, স্লিপওয়ে এবং যন্ত্রপাতিসহ মেরিন ওয়ার্কশপ কমপ্লেক্স নির্মাণ, দিগরাজে রেলক্রসিং ওভারপাস নির্মাণ, মোংলা বন্দরের বিদ্যমান সড়ক ৬ লেনে সম্প্রসারণ, বহুতল কার ইয়ার্ড নির্মাণ ইত্যাদি। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মোংলা বন্দর বছরে ১৮০০টি জাহাজ, এক কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন কার্গো, চার লাখ টিইউজ কন্টেইনার, ৩০ হাজার গাড়ি হ্যান্ডলিং করতে পারবে। মোংলা বন্দরের বার্ষিক আয় ১৫০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস ও অন্যান্য সংস্থার আয় ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।