শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ২০ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১১ রজব ১৪৪৪ হিজরি
শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

সুন্দরবনে জেলে অপহরণের ঘটনায় তিন বনদস্যু গ্রেফতার

সুন্দরবনে জেলে অপহরণের ঘটনায় তিন বনদস্যু গ্রেফতার। ছবি-দৈনিক হুংকার।

সুন্দরবনের মৃগামারী খাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন বনদস্যুকে আটক করেছে মোংলা থানা পুলিশ।
সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোররাতে বনের গহীনের শেলা নদীর বাওন থেকে অস্ত্রসহ তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্র, নৌকা ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালে সরকার সুন্দরবন দস্যু মুক্ত ঘোষনা করার পর থেকে বনের অভ্যন্তরে মাছ ও কাঁকড়া আহরীত জেলে বাওয়ালীরা শান্তিতে বনের বনজ সম্পদ আহরণ করছিল। দীর্ঘ ৫ বছর পর আবারও হঠাৎ গত ৯ ডিসেম্বর রাতে নতুন এক দল বনদস্যুর আবির্ভাব হয়।
এ সময় তারা জেলে বহরে হামলা ও লুটপাট চালায় এবং মুক্তিপণের দাবিতে ১৫ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে জেলে প্রতি ১০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিয়ে তাদের জিম্মিদশা থেকে ২১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুক্ত হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে আসে বলে জেলেরা জানায়। এঘটনা নিয়ে জেলে ও জেলে পরিবারের মাঝে নতুন করে উৎকন্ঠা ও আতংঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পর থেকেই সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত করতে র‌্যাব, কোস্টগার্ড, বনবিভাগ ও পুলিশ যৌথ অভিযানে নামে। তাই এক গোপন সংবাদের সূত্রধরে সুন্দরবনের জয়মনি ঘোল এলাকায় অভিযানে নামে মোংলা থানা পুলিশ। বাগেরহাট পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে রাত সাড়ে ৪টার দিকে মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মনির ঘোল শেলা নদী সংলগ্ন সুন্দরবনের মিরগামারী খালের উত্তর পাড় থেকে শরণখোলা থানার সাউথখালী ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মৃত মকবুল ফরাজী ছেলে মোঃ মাসুম ফরাজী (৩৫), একই ইউনিয়নের মোঃ আব্বাস কবিরাজের ছেলে মোঃ হাছান কবিরাজ (৩০) ও বড়গুনা জেলার পাথরঘাটা থানার চরদুয়ারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড এলাকার মৃত আমির হোসেন হাওলাদারের ছেলে মোঃ আলমগীর হোসেন হাওলাদার (৫০) কে গ্রেফতার করা হয়।
তাদের কাছ থেকে ১টি দেশী তৈরী একনালা বন্দুক, ৩ রাউন্ড কার্তুজ, কাঠের বাটসহ ২টি রামদা, ২টি লোহার রড, ১টি কাঠের পুরাতন ডিঙ্গি নৌকা, ২টি টর্চ লাইট, ২টি পুরাতন সুতী চেকের গামছা, জেলেদের হাত-পা বাধার লাইলনের রশি, ১টি স্কচ টেপ সহ বিভিন্ন সাইজের কয়েকটি গরান গাছের লাঠি ও তাদের ব্যবহৃত অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত এসকল বনদস্যুদের বিরুদ্ধে মোংলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বিকাশ চন্দ্র ঘোষ বাদী হয়ে মোংলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং-২৬।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর নতুন করে সুন্দরবনে বনদস্যুর তৎপরতা ও জেলে অপহরণের খবরে প্রশাসন তাদের টহল জোরদার করেছে। তাদের অভিযানের মূখে টিকতে না পেরে মুক্তিপণ নিয়ে জেলেদের ছেড়েও দিয়েছে কিন্ত সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে অভিযান চলমান রয়েছে।
২৬ ডিসেম্বর রাতে ৩ দস্যুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি বনদস্যুদেরকেও গ্রেফতারে অভিযান চলছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


error: দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।