Monday 17th June 2024
Monday 17th June 2024

Notice: Undefined index: top-menu-onoff-sm in /home/hongkarc/public_html/wp-content/themes/newsuncode/lib/part/top-part.php on line 67

নির্বাচনের বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে হামলা, সংঘর্ষে আহত ১৫, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বসত বাড়ি ভাংচুর

নড়িয়ার ডগ্রি বাজারে নির্বাচন পরবর্তী সংঘর্ষে আহত ব্যক্তি। ছবি-দৈনিক হুংকার।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে বিজয় মিছিল করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন ইউপি চেযারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন।
বিজয়ী চেয়ারম্যান ইসমাইল হকের সমর্থক ও পরিজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুন মোস্তফার সমর্থকদের মধ্যে বুধবার (৮ মে) রাতে ডগ্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় জরিত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আর আহতদের কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার নড়িয়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিজয়ী হয়েছেন শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হক। আর পরাজিত হন নড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মামুন মোস্তফা। নশাসন ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন তালুকদার ও ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার কাদের মুন্সি মামুন মোস্তফাকে সমর্থন করেন। আর বিঝারী উপসী তারা প্রসন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আমীন, লিটন হাওলাদার মাহাবুব ফকির ও নুরুজ্জামান হাওলাদরসহ তাদের স্বজনরা ইসমাইল হকের পক্ষ নেন।
বুধবার ফলাফল ঘোষনার পর সন্ধ্যায় নুরুল আমীন, লিটন হাওলাদার, মাহাবুব ফকির ও নুরুজ্জামান হাওলাদারের নেতৃত্বে ডগ্রি বাজারে বিজয় মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিল থেকে ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা দেলোয়ার তালুকদারের বাসভবন ও বিপনি বিতানে হামলা করা হয়। তখন দেলোয়ার তালুকদার এমন আচরণের বিষয় জানতে চান। ওই সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দেলোয়ার তালুকদারসহ দুই পক্ষের ১৩ জন আহত হন। তখন দেলোয়ারের বিপনি বিতানের ১০টি দোকানের সাটার ভাংচুর করা হয়।
এসময় প্রতিপক্ষের ইটের আঘাতে মাথায় গুরুত্বর আহত হয়।
পরে রাতে দেলোয়ার তালুকদারের সমর্থকরা ডগ্রি মাদবর কান্দিতে মাদবর বাড়িতে হামলা করে। সেখানে ১০টি বসত ঘর ভাংচুর করা হয়। ঘরের আসবাবপত্র, ব্যবহারের জিনিসপত্র ভাংচুর করা হয়, ৮-১০টি গবাদিপশু নিয়ে যাওয়া হয়। দুটি মটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। একটি মটর সাইকেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ সময় আমেনা বেগম ও লুৎফা বেগম নামে দুই বয়স্ক নারীকে মেরে আহত করা হয়েছে।
দেলোয়ার তালুকদার ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী ডালিয়া আক্তার বলেন, আমার স্বামী রাজনীতি করেন। তিনি একজন প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় ইসমাইল হক ক্ষুব্দ হন। তার সমর্থকরা বিজয় মিছিল করার সময় আমাদের বাড়ি ও মার্কেটে হামলা চালায়। আমার স্বামী ও তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছেন। আমি সন্ত্রাসীদের বিচার চাই।
নুরুল আমীন, লিটন হাওলাদার, মাহাবুব ফকির ও নুরুজ্জামান হাওলাদারকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। নুরুল আমীনের নম্বরে ফোন করা হলে তার স্ত্রী জামশেদা আক্তার ধরেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী ওই ঘটনায় জরিত নন। তিনি শিক্ষক মানুষ, সন্ত্রাসী কাজে জরিত নন। রাতে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছেন।
পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মামুন মোস্তফা বলেন, ইসমাল হক বিজয়ী হওয়ার পর আমার কর্মিদের মারধর করছেন। তাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করেছেন। আমারা ঘটনাগুলো পুলিশকে জানিয়েছি।
বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী ইসমাইল হক বলেন, আমার সকল কর্মীকে বিজয় মিছিল না করার জন্য বলেছিলাম। তারপরও ডগ্রিতে একটি মিছিল করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার তালুকদার তার লোকজন নিয়ে ওই মিছিলে হামলা করেন। তাতে তিনিসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গত রাতে দেলোয়ারের লোকজন আমার সমর্থক মাদবর বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। সেখানে নারীদের মারধর করা হয়েছে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডগ্রিতে বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় ৯ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

দৈনিক হুংকারে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।